শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বাঘায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন অতিষ্ঠ 

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২২, ২১:৪২

রাজশাহীর বাঘায় লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন হওয়ার আগে কোটি-কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় পৃথক দুটি সাবস্টেশন। একটি বাঘা, অপরটি আড়ানী। উদ্দেশ্য বৈদ্যতিক সুবিধা পাবে এই এলাকার জনগণ। কিন্ত বাস্তব অর্থে সেটি হচ্ছে না। এখানে প্রতিনিয়ত চলছে লোডশেডিং। ফলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়রা বলেছেন, এ উপজেলায় কোনো কলকারখানা নেই। তারপরেও দিনে-রাতে কম করে হলেও ৮-১০ বার বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জনসাধারণ। অথচ বিদ্যুৎ বিলের (অর্থ) টাকার পরিমাণ দিন-দিন বেড়েই চলেছে। এদিক থেকে একজন গ্রাহক কোনো কারণে পর-পর তিন মাস বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। অতঃপর পুনরায় সংযোগ চালু করার জন্য তাকে গুণতে হয়েছে ফের নগদ অর্থ।

ভুক্তভোগীরা জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যে কোনো বড় ধরনের ঝড়ো-হাওয়া না হলেও কারণে-অকারণে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধিন বাঘা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস এরিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে। কখনো কখনো তারা মাইকিং করে জানান দিচ্ছেন, আগামী কাল দুপুর ১২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকবে না। এরপর সন্ধ্যা কিংবা রাতে ফের লোড সেডিং দেওয়া হচ্ছে। 

এবিষয়ে পল্লী বিদ্যুতে ফোন করে বিদ্যুৎ না থাকার কারণ জানতে চাইলে তারা বলছেন, কাটাখালি গ্রীডে সমস্যাজনিত কারণে বিদ্যুৎ নেই। অথচ পার্শ্ববর্তী উপজেলা লালপুর এবং পুঠিয়ায় ফোন করলে জানা যাচ্ছে তাদের উপজেলায় বিদ্যুৎ আছে।  

বাঘার কাপড় ব্যবসায়ী কামরুল হাসান বলেন, করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ দিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। তথাপি ১৬ জন কর্মচারীকে বেতন দিতে হয়েছে। সম্প্রতি সরকার দোকান খোলার অনুমতি দিলেও প্রতিনিয়ত যেভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে, তাতে দোকান পরিচালনা করা একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তিনি এবিষয়ে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।
  
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন মোবাইল ও ফ্যাক্সি ব্যবসায়ীসহ কম্পিউটার অপারেটর এবং ফটো ম্যাশিন চালক জানান, লকডাউনের মধ্যে গ্রাহকরা মোবাইলে নগদ, বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদান করছেন। ঘরে বসেই তা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বর্তমানে মোবাইলে চার্জ দেওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যারা ফটোকপি এবং কম্পিউটারে চাকরির আবেদনসহ নানা বিষয়ে লেখালেখি করেন, তাদেরও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

উপজেলার আমোদপুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমানে বিলে পানি থাকায় গভীর নলকূপগুলো (পাম্প) প্রায় বন্ধ থাকছে। তারপরেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট একেবারে বন্ধ নেই। এটি আমাদের কাম্য নয়। এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখাতেও মারাত্মক ব্যঘাত ঘটছে। 

সার্বিক বিষয়ে বাঘা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম সুবির কুমার দত্ত লোডশেডিংয়ের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাঘায় ৬০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এখানে প্রতিদিন ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু আমরা অধিকাংশ সময় ২-৩ মেগাওয়াট কম পাই। এই সমস্যাটা জাতীয় গ্রিড থেকে হয়ে থাকে। এ ছাড়াও, মাঝেমধ্যে কাটাখালি গ্রিডে অন্য সমস্যার কারণেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়ে থাকে।

 

ইত্তেফাক/মাহি 

 

 

 

ইত্তেফাক/মাহি