চামড়া কিনতে ২৫৮ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২২, ০৪:০৬

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কিনতে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক মিলে ব্যবসায়ীদের ৪৩৩ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। এসব ঋণের মধ্যে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক (সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী) দেবে ২৫৮ কোটি টাকা। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২০ কোটি টাকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জনতা ব্যাংক লিমিটেড। এসব ঋণের অধিকাংশই বিতরণ করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্রে জানা গেছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে চামড়া বাবদ ঋণ নিয়ে অন্য খাতে বিনিয়োগ করার প্রবণতা রয়েছে। এ কারণে খেলাপি হচ্ছেন তারা। তবে এসব খেলাপি আর চামড়ার ঋণ অন্য খাতে ব্যয় করা নিয়ে সতর্ক রয়েছে ব্যাংকগুলো। এসব কারণে কোরবানিতে চামড়া কেনার সংখ্যা বাড়লেও ঋণের পরিমাণ কমে আসছে।

চামড়া ব্যবসায়ীদের মতে, কাঁচা চামড়া থেকে ওয়েট ব্লু  করতে ৪৫ ধরনের কেমিক্যালের ব্যবহার হয়। পূর্ণাঙ্গ চামড়া তৈরি করতে ৯২ প্রকারের কেমিক্যাল চামড়ায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এরমধ্যে কিছু কেমিক্যালের দাম চার গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে একটা দাম বাড়লে দেশি ব্যবসায়ীরা আরো দাম বাড়িয়ে দেন। এতে আমরা যে চামড়া কিনি তার তিন গুণ কেমিক্যালের পেছনে খরচ করতে হচ্ছে। কেমিক্যালের ব্যবসা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত। এতে সবাই কেমিক্যাল কম দামে পাবে, আবার চামড়ার ব্যবসাও ভালো হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের লোগো

তারা বলছেন, বন্ডেড যারা আছে তারা কেমিক্যাল আনেন। নিজেদের মতো করে দাম রাখেন। এজন্য কেমিক্যাল ব্যবসা উন্মুক্ত করে দিলে ভালো হয়। অন্তত ৫০ শতাংশ উন্মুক্ত করা উচিত। এতে সরকার ট্যাক্স পাবে, রাজস্ব বাড়বে। আবার প্রান্তিক পর্যায়ে চামড়ার বাজারও ভালো হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এবার কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে ট্যানারি মালিকরা ৪০০ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ পাবেন। তবে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক মিলে ৪৩৩ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এরমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক ২৫৮ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে জনতা ব্যাংকই দিচ্ছে ১২০ কোটি টাকা। গত বছর একই পরিমাণ ঋণ বিতরণের প্রস্তুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত জনতা ব্যাংক বিতরণ করে ৪০ কোটি টাকা।

এ বছর রূপালী ব্যাংক ৩০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। অগ্রণী ব্যাংক দিচ্ছে ৮৩ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ কোটি টাকা। নব্বই দশকে চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের পর সেসব ঋণ ফেরত না আসায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো এ খাতে ঋণ বিতরণ থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এখন মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকই চামড়া কেনায় বেশি ঋণ দিয়ে থাকে। এর বাইরে বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে।

২০২০ সালে ঈদুল আজহায় রাষ্ট্রায়ত্ত চারটিসহ ৯ বাণিজ্যিক ব্যাংক চামড়া খাতে বরাদ্দ রেখেছিল ৬৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এসব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঋণ বিতরণ হয়েছিল মাত্র ৬৫ কোটি টাকা। ২০২১ সালেও ৫৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও অর্ধেকের কম ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল।

এদিকে, চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ বিতরণ সহজ করতে সম্প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চামড়া ব্যবসায়ীরা ঋণ পেতে আগের ঋণ খেলাপি হলে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে দিয়ে পুনঃতপশিল করতে পারবেন। ঐ নির্দেশনায় বলা হয়, পুনঃতপশিলিকরণ পরবর্তীকালে ব্যাংকিং নিয়মাচার অনুসরণপূর্বক তপশিলি ব্যাংকসমূহ ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা যাচাই সাপেক্ষে ২০২২ সালে কোরবানি করা পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। ২০২২ সালে কোরবানি করা পশুর চামড়া ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কম্পে্রামাইজড অ্যামাউন্ট আদায় করা যাবে না।

ইত্তেফাক/ইআ