ঈদের ছুটিতে বন্ধুকে নিয়ে ফতুল্লায় মৌসুমী নামের এক বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। পুলিশ এ ঘটনায় বান্ধবীসহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। গত শনিবার রাতে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জের ছলিম উদ্দিনের ইটভাটায় ঐ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গতকাল রবিবার সকালে বান্ধবী মৌসুমী আক্তারের ধর্মগঞ্জের আরাফাত নগরের বাসা থেকে ধর্ষণের শিকার তরুণীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে ঐ তরুণীর সঙ্গে থাকা বন্ধু শামীম পলাতক রয়েছে। তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুরো ঘটনার সঙ্গে শামীম জড়িত থাকতে পারে।
পুলিশ জানায়, ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণী গার্মেন্ট শ্রমিক। সে শামীম নামে তার এক ছেলে বন্ধুকে নিয়ে শুক্রবার দুপুরে মৌসুমীর বাড়িতে বেড়াতে আসে। এ সময় মৌসুমী তাদের বাসায় আটক করে ওই তরুণীর মায়ের মোবাইলে ফোন করে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এতে গার্মেন্ট কর্মীর মা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে প্রযুক্তির মাধ্যমে বান্ধবীর অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর ফতুল্লা পুলিশের সহযোগিতায় মৌসুমীকে ফোন করে জানানো হয় আপনার নামে পার্সেল আসছে কুরিয়ার সার্ভিসে এসে নিয়ে যান। তখন মৌসুমী বলেন, আমার বাসায় এসে দিয়ে যান। এ সময় পুলিশ গিয়ে আরাফাতনগর এলাকার বাসা থেকে মৌসুমীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার ঘর থেকে গার্মেন্ট কর্মীকে আহত অবস্থায় বের করে দেয়। তখন মৌসুমীর ঘর থেকে দুই ধর্ষককে আটক করে পুলিশ। এ সময় ধর্ষকরা পুলিশকে জানায়, মৌসুমীর ডাকে ধর্মগঞ্জ এলাকার সলিমুল্লাহর ইটভাটায় তরুণীকে নিয়ে একটি ঝুপড়ি ঘরে তারা ৮/৯ জন ধর্ষণ করে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে মৌসুমী ইটভাটা থেকে তরুণীকে তার বাসায় এনে রাখে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, তদন্তের স্বার্থে ধর্ষকদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে বান্ধবী মৌসুমীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। চিকিত্সার জন্য তরুণীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
