রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের পলাশতলী গ্রামে মেঘনা নদীর ভাঙনে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকার প্রায় ১০০ বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সবকিছু হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। তাদের কিছু কিছু লোকের ঠাঁই মিলেছে পোলট্রি ফার্ম, গোয়ালঘর ও খোলা আকাশের নিচে।
এদিকে, ভাঙন এলাকা থেকে ১০০ মিটারের মধ্যেই রয়েছে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা, টেকনিক্যাল স্কুল, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ-মাদ্রাসা ও অসংখ্য বসত ভিটা। যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠান ও বসত ভিটাগুলো। ভাঙনরোধে বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নরসিংদী জেলা ও রায়পুরা উপজেলা প্রশাসন, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার করুণ দৃশ্য। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ১০০ বসতভিটা, ফসলিজমি ও গাছপালা।
পলাশতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল বাছেদ বলেন, গত দুই দিনের নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আতঙ্কে রয়েছে। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। দ্রুত ব্যবস্হা গ্রহণ না করা হলে গ্রামের অবশিষ্ট অংশও নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রশাসন দীর্ঘদিন যাবত আশ্বাস দিয়ে আসছে, কিন্তু এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, গত ২৮ জুন চোখের সামনে ২৬টি বসত ভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত দুই দিনে আরো প্রায় ৭০টি পরিবার ভিটেবাড়ি হারিয়েছে। রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজগর হোসেন বলেন, ‘আমরা নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। নতুন করে নদীভাঙনে প্রায় ৪০টি বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অর্ধশত পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’ পানি উন্নয়ন বোর্ড নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘রায়পুরায় নদীর তীরবর্তী রক্ষাবাঁধ নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে বর্ষার পানি কমলেই আমরা কাজ শুরু করব।’
গঙ্গাচড়ায় ভাঙন হুমকিতে ব্রিজ
গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙন হুমকির মুখে বিনবিনা এলাকার একটি ব্রিজ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাবু ঘাটিয়ালের বাড়ি থেকে মৌসুমীর বাড়ির কাছের রাস্তায় ৩৬ ফুট দীর্ঘ একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যখন ব্রিজটি এখানে নির্মাণ করা হয়, তখন নদী ছিল দেড় কিলোমিটার দূরে। সেই নদী এখন ভাঙতে ভাঙতে ব্রিজের কাছে এসেছে। যে ভাবে নদী ভাঙছে আর ৫০ থেকে ৬০ ফুট ভাঙলে ব্রিজটি আর ঠেকানো যাবে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, গঙ্গাচড়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুনিমুল হক বলেন, ইট দিয়ে নয় ব্রিজটি আরসিসি ঢালাই দিয়ে তৈরি। সেই কারণে ভাঙাও যাচ্ছে না। আর নদী ভাঙলে এই মুহুর্তে আমাদের করার কিছু নেই। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকারিয়া আলম বলেন, চরে কাজ করা আপাতত সম্ভব নয়।
