পাকিস্তানে প্রবল বর্ষণে প্রাণহানি বেড়ে ৭৭

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২২, ০৪:০০

পাকিস্তানে গত তিন সপ্তাহের প্রবল বর্ষণে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু বেলুচিস্তানে মারা গেছে ৩৯ জন। এত সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর ঘটনাকে জাতীয় দুর্যোগ বলে আখ্যায়িত করেছে পাকিস্তান। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শেরি রেহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর ডন ও গার্ডিয়ানের।

মন্ত্রী শেরি রেহমান বলেন, প্রবল বর্ষণে শতাধিক বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। তাছাড়া ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, মৃত্যু ও ধ্বংস এড়াতে আমাদের একটি ব্যাপক পরিকল্পনা দরকার। কারণ এই দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটছে। 

তিনি আরো বলেন, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) বর্ষা মৌসুম কেন্দ্র করে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। তবে ক্ষতি এড়াতে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। 

দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, বৃষ্টি থামার কোনো লক্ষণ নেই। আরো একদিন ভারী বৃষ্টি থাকবে। তা ছাড়া নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এদিকে বন্যায় সবচেয়ে বেশি বেলুচিস্তানের মানুষের অবস্হা খারাপ বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে উঠে এসেছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, বন্যায় ভেসে যাওয়া এলাকাগুলো দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে হওয়ায় সেখানে যাওয়া যাচ্ছে না। দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা। এছাড়া গৃহহারা মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে।

গত কয়েক দিনে বেলুচিস্তানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। কিলা সাইফুল্লাহ জেলার সহকারী কমিশনার লিয়াকত কাকার জানান, খুসনবের পর্বতগুলোর কাছে হড়কা বানে চার নারী ও এক বালক ভেসে গেছে। কিলা সাইফুল্লাহর ৯০ শতাংশ মাটির বাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বহু পরিবার ঘরহারা হয়েছে। 

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টি ও হড়কা বানে বেলুচিস্তানে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার পর কিলা-সাইফুল্লাহ জেলাই সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় লোরালাইয়ের শের জান বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জেলার ডেপুটি কমিশনার জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি