যেভাবে টাইমস স্কয়ারে হামলার পরিকল্পনা করেছিল আশিকুল

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ০১:০১

যুক্তরাষ্ট্রের টাইমস স্কয়ারে হামলা চালানোর জন্য অবৈধ অস্ত্র কেনার অভিযোগে বৃহস্পতিবার এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সেখানকার গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা। পরের দিন তাকে নিউ ইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ব্রুকলিনের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক শেরিল এল পোলক তাকে স্থায়ীভাবে আটক করে রাখার আদেশ দেন বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। গতকাল বিবিসি বাংলা এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

২২ বছর বয়সী আশিকুল আলম টাইমস স্কয়ারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার জন্যে অবৈধ অস্ত্র কিনেছিলেন যেগুলোর গায়ের সিরিয়াল নাম্বারগুলো মুছে ফেলা হয়েছিল, একথা আদালতকে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি রির্চাড ডনোগহিউ। তিনি জানান, আশিকুল জানতেন না যে তিনি অস্ত্রগুলো সরকারি গোয়েন্দাদের কাছ থেকে কিনছেন এবং তার পরিকল্পনা ও গতিবিধি মনিটর করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারে ১০ মাসের বেশি ‘স্টিং অপারেশন’

দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এর স্পেশাল এজেন্ট সিন ডিললন এর ফাইল করা অভিযোগপত্রে আশিকুলের পরিকল্পনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। মামলার নথিতে বলা হচ্ছে, নিউ ইয়র্কের কুইন্সে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক আশিকুল আলম আমেরিকার একজন বৈধ স্থায়ী অধিবাসী। নথিতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮ সালের আগস্টে আশিকুলের সঙ্গে প্রথমবারের মত দেখা করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন গোয়েন্দা। পরে এ বছরের ৬ জুন পর্যন্ত নিয়মিত তার সাথে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। তখন আলম ৯/১১ সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার পক্ষে কথা বলতেন। তিনি অনেকবার কথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএসসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনেরও প্রশংসা করতেন। এমনকি নিউ ইয়র্ক সিটিতে হামলা চালানোর জন্যে বহুবার অস্ত্র, গোলাবারুদ কেনার প্রতি আগ্রহ দেখাতেন আশিকুল। তাদের মধ্যে সব কথোপকথন রেকর্ড করেছিল নিরাপত্তা বাহিনীর এজেন্টরা।

হামলার জন্যে রেকি

আদালতে উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, এই বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকেই সরকারি গোয়েন্দাকে নিয়ে টাইমস স্কয়ারে রেকি করতে যান আলম। সেখানে গিয়ে তিনি মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করেছিলেন। বলেছিলেন যে তিনি সম্ভাব্য টার্গেট খুঁজছেন।

হামলা সফল হলে কিংবদন্তি হবো

টাইমস স্কয়ারে রেকি করতে যাওয়ার পথে এআর-১৫ চালানো শেখা নিয়েও তিনি আগ্রহ দেখান। রেকি করার সময় আলম বলছিলেন যে তারা যদি একটি হামলা সফল করতে পারেন, তবে তারা কিংবদন্তি হয়ে যাবেন।

হামলার জন্য চোখের সার্জারি

এপ্রিলে আলম এবং প্রথম গোয়েন্দা আবারও পেনসিলভানিয়ার শুটিং রেঞ্জে যান। তখন তিনি জানান যে চোখে ল্যাসিক সার্জারি করানোর অ্যাপোয়েন্টমেন্ট নিয়েছেন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে। প্রথম গোয়েন্দা যেন তাকে সেখানে যেতে ও আসতে সাহায্য করেন, সে ব্যাপারেও বলে রাখেন।