সাভারে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে এক কিশোর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে সাভার বাজার রোড এলাকায় দুর্বৃত্তরা ওই কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। নিহত ওই কিশোরের নাম মো. আলামিন খাঁন (১৫)। সে ফরিদপুর জেলার কোতায়ালী থানার হাট গোবিন্দপুর গ্রামের আকমল খাঁনের ছেলে। আলামিন তার পরিবারের সঙ্গে সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার বসবাস করে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মোবাইল সার্ভিসিং দোকানে কাজ করতো।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে আলামিন মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফিরছিল। একপর্যায়ে সে ওয়াবদা রোড এলাকায় পৌছলে দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এসময় পথচারীরা তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলামিন মারা যায়।
নিহতের বাবা আকমল খাঁন বলেন, আমার ছেলে গত তিন বছর ধরে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মোবাইল সার্ভিসিং দোকানে কাজ করতো। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাসায় খেয়ে সে কাজে যায়। কিন্তু সারারাত সে বাসায় না ফেরায় শুক্রবার সকালে আমি ছেলে নিখোঁজের বিষয়টি জানিয়ে থানায় জিডি করতে যাই। থানায় আমি ছেলের ছবি দেখালে তারা জানায় এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটি ছেলের লাশ রয়েছে। আপনি একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন। তাদের কথামতো হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার ছেলে আলামিনের লাশ পড়ে আছে।
এ ঘটনায় আকমল খাঁন দাবি করেন, আমার ও আমার ছেলের কোনো শত্রুতা নেই। তবে আলামিন আগে যে দোকানে কাজ করতো সেখানকার কিছু ছেলের সঙ্গে তার মারামারি হয়েছে। ওই ঘটনা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে। আমার ছেলেকে হত্যার বিচার চাই।
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুণ-উর-রশিদ বলেন, আলামিনের বুকে ও পিঠে ছুরির গভীর আঘাত রয়েছে। নিহতের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কিশোরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকারীর পরিচয় ও হত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুতই অপরাধীদের গ্রেফতার করা হবে।
