ভয়াবহ বন্যায় সিলেট-ছাতক রেলপথের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বানের পানির তীব্র স্রোতে রেললাইনের প্রায় ১৩ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর অধিকাংশ স্হানে রেলপথের মাটি-পাথর সরে ঝুলে রয়েছে স্লিপার।
ছাতক থেকে গোবিন্দগঞ্জের আফজলাবাদ স্টেশন পর্যন্ত রেলপথের এমন অবস্হা। মাটি-পাথর সরে গেছে, উপড়ে গেছে লাইনের স্লিপার। অনেক জায়গায় স্লিপারের নিচের কাঠ সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ১৩ কিলোমিটার রেলপথ স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে এখানে জনমনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। করোনা মহামারির সময়ে এই রেলপথে রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। চালু অবস্হায় ছাতক-সিলেট রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এখন বন্যায় রেলপথটি ব্যাপক ক্ষতির শিকার হলো।
১৯৫৪ সালে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন হতে পশ্চিম-উত্তরে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক বাজার রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হয়। ঐ সময়ে এই রেলপথের সর্বশেষ স্টেশন হিসেবে ছাতক বাজার রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ করা হয়। আগে এটি ছিল আখাউড়া-কুলাউড়া-সিলেট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। দেশের বিভিন্ন প্রান্েত পাথর, বালি, চুনাপাথর, কমলালেবু ও তেজপাতাসহ বিভিন্ন মালামাল আনা-নেওয়ার জন্যই মূলত রেলপথটি নির্মিত হয়েছিল। সে সময় থেকেই ছাতক-দোয়ারাবাজার অঞ্চলসহ সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের রেলে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হয়।
ব্যবসায়ী সীতেশ দাস জানান, দোকানের মালামাল আগে রেলপথেই আনা হতো। এতে অনেকটা কম মূল্যে মালামাল বিক্রি করা যেত। বর্তমানে এ সুযোগ আর নেই। নরশিংপুর এলাকার সবজিচাষি নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাদের এলাকার উত্পাদিত সবজি ট্রেনে করে কম ভাড়ায় সিলেট নিয়ে বিক্রি করা যেত। এখন মালামাল আর সিলেটে নেওয়া যায় না। স্হানীয় হাটেই বিক্রি করা হয়। মানিকপুরের লিচু বাগানি আব্দুল হামিদ জানিয়েছেন, এলাকার বাগানের উত্পাদিত লিচু অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো যাচ্ছে না। ট্রেন চালু থাকলে এ অঞ্চলের লিচু দেশের বিভিন্ন স্হানে পাঠানো সম্ভব হতো।
সিলেট রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম জানান, রেলপথটি চালু ছিল। ইঞ্জিনের অভাবে এ লাইনে এতোদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে বন্যায় রেলপথ অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে শিগ্গিরই এ রেলপথ চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
ছাতক রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এ ই এন) জোবায়ের আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বন্যায় রেলপথের অনেক ক্ষতি হয়েছে। রেলপথের ক্ষয়-ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন। রেলপথ চালুর জন্য আমরা চেষ্টা করছি। ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানিয়েছেন, বন্যায় রেলপথের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সংস্কার করে ছাতক-সিলেট রেলপথে ট্রেন চালু করা হলে এই অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবে।
