রাজশাহী অঞ্চলে এবারও গাছ থেকে আম পাড়ার সময় বেঁধে দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। কিন্তু রমজানের কারণে সেভাবে আম পাড়েননি আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে ঈদের ছুটিও শেষ হয়েছে। তাই রাজশাহী অঞ্চলে শনিবার থেকে আম পাড়া শুরু হয়েছে। ফলে চাঙা হয়ে উঠেছে আমের বাজার। একই সঙ্গে রাজশাহী অঞ্চলের আম কেন্দ্রীক অর্থনীতিও বেশ চাঙা হয়ে উঠেছে। তবে এবার রাজশাহীতে আমের বাজার চড়া বলে জানিয়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলেন, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিসহ নানা কারণে চলতি মৌসুমে আমের উত্পাদন কম হয়েছে। ফলে ভরা মৌসুমে বাজারে আমের সরবরাহ কম থাকায় এবার শুরুতেই আমের দাম বেশি। এ কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের আগেই রাজশাহী অঞ্চলের বাজার থেকে আম ফুরিয়ে যাবে।
রাজশাহীর সবচেয়ে বড় এবং উত্তরাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমের মোকাম পুঠিয়ার বানেশ্বর হাট। রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের পাশেই পুরনো কাচারি মাঠকে ঘিরে ধুলোবালি ও প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে এখন আমের হাট জমতে শুরু করেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা আমবোঝাই ভ্যানগাড়ি ও নসিমনগুলোর জটলা। সবাই গাদাগাদি করে আমের পসরা সাজিয়ে বসেছেন।
প্লাস্টিকের ক্যারেটে করে থরে থরে সাজানো হয়েছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন জাতের কাঁচা-পাকা আম। ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে রাজশাহীর সবচেয়ে বড় এ আমের হাট। ঈদের ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে অনেকেই প্রিয়জনদের জন্য ফেরার পথে আমের ঝুড়ি নিয়ে ফিরছেন।
খুচরা ব্যবসায়ী ও পাইকারদের মধ্যে চলছে আম নিয়ে দামাদামি। গত ২০ মে থেকে জাত আম খ্যাত গোপালভোগ বাজারে আসে। বর্তমানে গোপালেই জমতে শুরু করেছে আমের হাট। তবে সরবরাহ কম থাকায় দাম চড়া।
বানেশ্বর হাটের আম ব্যবসায়ী হোসেন আলী বলেন, প্রথম দিকে হাটে গোপালভোগ, গুটি, রাণীপছন্দ এই তিন জাতের আম বিক্রি শুরু হয়। শুরুতে গোপালভোগ প্রতি মণ ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়, এবং গুটি জাতের ও রাণীপছন্দ আম বিক্রি ৯০০ থেকে শুরু করে ১ হাজার ৬০০ টাকায় পাইকারী বিক্রি হয়েছে। কিন্তু ঈদের পর দাম বেড়েছে। রাজশাহীর বাজারে এখন আর গুটি আম নেই।
ব্যবসায়ী হোনে আলী জানান, গোপালভোগ প্রতি মণ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, খিরসাপাত ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা ও রাণীপছন্দ আম ১ হাজার ৮০০ থেকে থেকে ২ হাজার টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিনই আমের দাম বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
আরেক আম ব্যবসায়ী অধ্যাপক আসাদুর রহমান বলেন, বর্তমানে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা ময়মনসিংহ থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা রাজশাহী থেকে সরাসরি আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবেও আম বিক্রি শুরু হয়েছে। সারাদেশের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন জাতের সুস্বাদু আম পুঠিয়া, দুর্গাপুর, বাঘা, চারঘাট, পবা, মোহনপুর, তানোর গোদাগাড়ী, বাগমারাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আড়তে আসতে শুরু করেছে।
আম ব্যবসায়ী শফিকুল বলেন, এবার শুরু থেকেই ঘন কুয়াশা, ঝড় ও শিলাবৃষ্টি এবং তাপদাহের কবলে পড়ে রাজশাহীর আম। এ কারণে আমের অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় ফলন কমেছে। এ কারণে বাজারে আমের সরবরাহ অন্য বছরের তুলনায় কম। তাই দামও বেশি বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৫ মে থেকে গুটি আম নামান চাষিরা। উন্নতজাতের মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, রাণীপছন্দ ২৫ মে, খিরসাপাত ২৮ মে এবং লক্ষণভোগ বা লখনা ২৬ মে থেকে নামানোর কথা ছিল। রমজানের কারণে এসব জাতের আম এখন নামানো শুরু হয়েছে। এছাড়া ল্যাংড়া আম গত ৬ জুন থেকে আম্রপালি এবং ফজলি আগামী ১৬ জুন থেকে নামানো শুরু হবে। সবশেষে আগামী ১৭ জুলাই থেকে নামবে আশ্বিনা জাতের আম।
