পদ্মা সেতুর কারণে ঈদকেন্দ্রিক পর্যটনে প্রাণের সঞ্চার

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২২, ১৫:০৪

ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই মানুষের ভিড় নামে পর্যটন এলাকায়। এবার সেই ঈদকে ঘিরে পর্যটনে সব সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে পদ্মা সেতু। 

পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ পথ কম সময়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা হওয়ায় এবার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটনে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যে অগ্রিম শতভাগ হোটেল মোটেল বুকিং হয়ে গেছে কুয়াকাটায়। কুয়াকাটা ছাড়াও এই অঞ্চলের পর্যটন এলাকা ঘিরে আকর্ষণীয় প্যাকেজও ঘোষণা করছে ট্যুর অপারেটররা। গত ঈদের চেয়ে দ্বিগুণ পর্যটনের আশা করছেন তারা। 

বঙ্গবন্ধুর সমাধি, গোপালগঞ্জ। ছবি- সংগৃহীত

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটন এলাকায় মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ঘিরে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে পর্যটকরা। 

আগে যেখানে ঢাকা থেকে দক্ষিণের সাগরকন্যা কুয়াকাটায় যেতে সময় লাগতো ১০ ঘণ্টা। পার হতে হতো অনেকগুলো ফেরি। এবার পদ্মা সেতু হওয়ায় সেখানে যেতে সময় লাগবে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা।  যার কারণে এবার ঈদে ব্যাপক সাড়া মিলছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। কুয়াকাটায় হোটেল মোটেল সব মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ১৫০ টি। এর মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ হোটেল মোটেল বুকিং হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। ঈদেও আগেই সেটি শতভাগ হবে বলে জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এবার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার পর্যটক  ঈদের পরের দিন থেকে ১৩ তারিখের ভেতর এই এলাকায় ভ্রমণে আসবেন।

ষাট গম্বুজ মসজিদ, বাগেরহাট। ছবি- সংগৃহীত

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি আমূল পরিবর্তন আসছে। যাদের নিজস্ব গাড়ি আছে তারা এবার তাদের নিজেদের গাড়ি নিয়ে কুয়াকাটা আসবেন। আমরা আগে এসব কাস্টমার পেতাম না। এবার তারা আসবে এখানে। তিনি জানান, কুয়াকাটায় হোটেল মোটেলে রাত্রী যাপন করতে পারবেন ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষ। এছাড়া আশে পাশে আরও কিছু ঘর আছে সেখানেও প্রায় ৩ হাজার মানুষ থাকতে পারবেন। তিনি জানান, প্রায় এবার আশা করছি ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ রাতে থাকার জন্য আসবে। গত ঈদের তুলনায় পর্যটক দ্বিগুণও আসতে পাওে বলেও তিনি জানান।  

অন্যদিকে পর্যটক বাড়লেও এত লোকের চাপ সামলানোর অবস্থা কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকতের আছে কিনা এ বিষয়ে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) টোয়াকের সভাপতি শিবলুল আজম কোরেশী বলেন, কুয়াকাটাকে ওভাবে প্রস্তুত বলা যাবে না। যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কুয়াকাটার দিকে মানুষের ঝোঁক একটু কম ছিলো, পদ্মা সেতুর কারণে সেটি এখন দূর হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা হিসেব করেই বিনিয়োগ করে, বিনিয়োগ করলে লাভ কেমন হবে এবার যেহেতু সম্ভাবনা বেড়েছে এই খাতে সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগও চলে আসবে। এতে এখানকার সক্ষমতা দ্রুতই আরও বাড়বে বলে আশা করছি। 

খান জাহান আলীর মাজার, বাগেরহাট। ছবি- সংগৃহীত

এছাড়াও ভোলার চর কুকড়ি মুকড়ি, গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর সমাধি, পদ্মা ফুলের বিল, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, বরগুনার শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, টেংরাগিরি ইকোপার্ক, লালদিয়া চর, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ, খান জাহান আলীর মাজারসহ বিভিন্ন এলাকা কেন্দ্রী বেশি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে পর্যটনে সাড়া পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যাক্সপ্লোরারস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাগর বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটনে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ, বরগুনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালীর কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকতসহ যেসব দর্শনীয় স্থান রয়েছে এসব ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ আসলে এখানে পর্যটনের দ্বার আরও উন্মোচিত হবে। পদ্মা সেতুর কারণে এখানে এখন মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। বিভিন্ন প্যাকেজে মানুষ যাচ্ছে এসব এলাকায় ঘুরতে। আগে যাতায়াতের কষ্টের জন্য নির্দিষ্ট কিছু স্পটে মানুষ যেত, এখন সেটি দূর হয়েছে। যার কারণে হোটেল মোটেল ব্যবসায়ী ও ট্যুর অপারেটররাও ছাড় দিয়ে মাঠে নেমেছে। এতে বেশ সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে।

সুন্দরবনে বিচরণরত রয়েল বেঙ্গল টাইগার। ছবি- সংগৃহীত

তিনি জানান, সুন্দরবনে সরকার কেন্দ্রিক নিষেধাজ্ঞা থাকায় আপাতত ওই দিকে মানুষ কম যেয়ে কুয়াকাটা কেন্দ্রিক ভিড় বাড়াচ্ছে। সেপ্টেম্বরের দিকে সুন্দরবনের দিকেও ভিড় বাড়বে বলে তিনি জানান। 

এ বিষয়ে ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের ইত্তেফাককে বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে এসব এলাকায় ট্যুরিজমে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আমরা বৃহৎ পরিকল্পনা করছি এসব এলাকা নিয়ে। কুয়াকাটার জন্য বেসরকারি বিনিয়োগও এখন দরকার বলে মনে করছি।

ইত্তেফাক/এমএএম