বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ছুরিকাঘাতে পুলিশের সোর্সকে হত্যা

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২২, ১১:৫৯

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পূর্ব শত্রুতার জের হিসেবে একদল দুর্বৃত্ত এক মাছ ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশ বলছে, নিহত ব্যক্তির নাম আশরাফুর রহমান মোল্লা (৫৩)। তিনি  বরিশাল জেলার গৌড়নদী উপজেলার মহিষা গ্রামের মৃত তোফায়েল আহমেদ মোল্লার ছেলে। স্ত্রী হোসনে আরা ও তিন মেয়ে, এক ছেলেকে নিয়ে বর্তমানে ৮৪/৭/খ, যাত্রাবাড়ী বিবির বাগিচা এলাকায় থাকতেন।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার (১১ জুলাই) বিকাল ৫ টার দিকে যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তের পাশে পূর্ব শত্রুতার জের হিসেবে এই ঘটনাটি ঘটে। মুমূর্ষূ অবস্থায় স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আশরাফুরের শ্যালক মিজানুর রহমান মোল্লা জানান, আশরাফুর যাত্রাবাড়ী বিবির বাগিচা এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতন এবং মাছের আড়তে ব্যবসা করতেন। পাশাপাশি পুলিশের সোর্সের কাজ করতেন। বিকালে লোক মারফত জানতে পারি, আশরাফুর ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। তাকে পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে তিনি হাসপাতালে এসে আশরাফুরের লাশ সনাক্ত করেন।

মিজান অভিযোগ করেন, যাত্রাবাড়ী আড়তের পাশে শ্যামলসহ (৩৫) কয়েকজন জুয়া খেলতেন। রবিবার ঈদের দিন আড়তের পাশে জুয়া খেলা নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জুয়াড়িদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় সোর্স আশরাফুরের। সোমবার বিকালে আড়তের পাশে আশরাফুরকে একা পেয়ে শ্যামলসহ কয়েকজন মিলে তার পেটে  ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, নিহত ব্যক্তির পেটে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহতের ছেলে মেহেদী হাসান জানান, গতকাল শ্যামল ও কয়েকজন জুয়া খেলছিল। আমার বাবা তাদের বাঁধা দিয়েছিলেন। সে কারণে এই ঘটনাটি ঘটাতে পারে বলে ধারণা করি। এছাড়া অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে।

সোমবার রাতে যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, নিহতের পরিচিত শ্যামল নামে এক ব্যক্তি তাকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে জানতে পেরেছি। বিস্তারিত ঘটনা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং শ্যামলকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

ইত্তেফাক/কেকে