মির্জাপুরে ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর ডায়রিয়ার প্রকোপ

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২২, ০৭:২০

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্যার পানি ও তীব্র গরমে ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর ও ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এতে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি নারী ও পুরুষদের মধ্যেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৫-২০ দিন ধরে উপজেলা জুড়ে চলছে এ অবস্থা। 

গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভিড়। রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে বন্যার পানি বেড়েছে। এছাড়া গত ২০-২৫ দিন ধরে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভা, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে শিশুদের পাশাপাশি বাড়ির অভিভাবকদের মধ্যেও সর্দি-জ্বর, মাথা ব্যথা, বমিসহ ডায়রিয়াজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। গরমের কারণে শিশুদের জ্বর, শ্বাসতন্ত্র, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং বয়স্ক নারী-পুরুষদের মধ্যে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে মির্জাপুর উপজেলা সদরের কুমুদিনী হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। বহির্বিভাগে শতাধিক অভিভাবক সর্দি-জ্বর, বমিসহ ডায়রিয়াজনিত রোগে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে চিকিৎসার জন্য এসেছেন। ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে এক অভিভাবক বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে তার সন্তানের ডায়রিয়া, বমি ও সঙ্গে জ্বর রয়েছে। এখানে চিকিৎসার জন্য এসেছেন।

কুমুদিনী হাসপাতালের চাইল্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বহির্বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, বহির্বিভাগে প্রতি দিন ২০০-২৫০ জন শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে। গত দুই দিন ঈদের জন্য ছুটি থাকার কারণে রোগীর চাপ কিছুটা কম ছিল। চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের অভিভাবকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

এ ব্যাপারে কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. এ বি এম আলী হাসান বলেন, বন্যার পানি ও গত বেশ কিছু দিন ধরে তীব্র গরমের কারণে শিশুসহ বয়স্কদের মধ্যে জ্বর-সর্দি, বমি ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশুরা জ্বর, শ্বাসতন্ত্র, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এতে ভয়ের কোনো কারণ নেই। আবহাওয়া পরিবর্তন এবং গরমের কারণে এ রোগ হচ্ছে। যারা চিকিৎসার জন্য আসছেন, হাসপাতালের চিকিৎসকরা রোগীদের যত্ন সহকারে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। 

মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে এবং মা শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারীরা ডায়রিয়া প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ ও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ইত্তেফাক/এমএএম