দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে টানা দুই সপ্তাহের তীব্র তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমের সাধারণ ও কর্মজীবী মানুষেরা অস্বস্তিতে পড়েছেন।
তীব্র রোদের তাপে কারণে দিন মজুর, রিকশাচালক, ঠেলা ও ভ্যানচালকরা কাজে করতে পারছেন না। অনেকেই জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে কাজে বেড়িয়েছেন। অনেকেই পার করছেন অলস সময়। তীব্র গরমে বয়স্ক, শিশুরা পড়েছে সব থেকে বেশি ভোগান্তিতে। একটু স্বস্তি পেতে ঠাণ্ডা শরবত, পানি, আইসক্রিম খেয়ে তৃষ্ণা মেটানোর চেষ্টা করছেন সাধারণ মানুষের।
গেল এক সপ্তাহ ধরে এ উপজেলায় তাপমাত্রা গড়ে ৩৫ ডিগ্রী ওঠানামা করছে। তিন চার দিন আরো তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জীব-বৈচিত্র্যের উপরও। এমন প্রচণ্ড গরমে নাভিশ্বাস উঠছে ফুলবাড়ীবাসীর। এতে করে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। একটু শীতলতার জন্য শিশু-কিশোর সবাই পুকুর-নদী, বিলে ছোটাছুটি করছে। অসহনীয় প্রচণ্ড গরমে গ্রামাঞ্চল কিংবা শহরে শিশু, বয়স্কদের জ্বর-সর্দি ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তাপের কারণে নানা বয়সিদের দেখা দিয়েছে চর্ম রোগও। তীব্র তাপদাহে কয়েকদিন থেকে উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজারে মানুষের সমাগম কিছুটা কমেছে। প্রচণ্ড গরমেই ব্যবসায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধও রেখেছেন। প্রচণ্ড তাপদাহ থেকে একটু স্বস্তি পেতে কেউ কেউ গাছের তলে বাঁশের টং বানিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। অনেকে আবার ঘন ঘন ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করছেন।
উপজেলার কুরুষাফেরুষা এলাকার ভ্যান চালক বাবল চন্দ্র বর্মন ও হাক্কু মিয়া জানান , গত এক সপ্তাহে প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে ঠিকমতো কাজে যেতে পাচ্ছি না। গরমে কাজ করতে না পেয়ে আয় কমে গেছে। আগে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করা যেত। এখন প্রচণ্ড গরমের কারণে সারা দিনে ২০০ টাকা আয় করা মুশকিল হয়ে পড়েছে।
একই এলাকার সুচিত্রা রানী রায় বলেন, প্রচণ্ড গরম পড়েছে। বাচ্চা নিয়ে খুবই সমস্যায় আছি। ঘরের মধ্যে থাকা যায়না। আমার তিন সন্তানের গত কয়েকদিন থেকে জ্বর-সর্দি ও কাশিতে ভুগছে। জানি না কবে বৃষ্টির দেখা মিলবে।
উপজেলার বালারহাট বাজারের ভ্যান চালক আব্দুস সাত্তার ও জহুরুল হক জানান, জীবন-বাঁচার তাগিতে রিকশা চালিয়ে আমাদের সংসার চলে। গত কয়েকদিন ধরে এত তাপদাহ সহ্য করার মত নয়। পেটে খেলে সব কিছুই সহ্য করতে হয়। তাই প্রচণ্ড গরমেই রিকশা চালাচ্ছি। এক ক্ষ্যাপ মেরে আবার গাছ তলায় রিকশার মধ্যেই বসে শুয়ে একটু দম নেই।
উপজেলার কাশিপুর এলাকার ভ্যান তৈয়ব আলী ও জোনাব আলী বলেন, কয়েক দিন থেকে ধরে যে তাপ উঠছে ভ্যান নিয়া পাকা রাস্তায় বের হওয়া যাচ্ছে না। চাকা পানচার হয়ে যায় গরমে। এই গরমের মধ্যে ভাড়াও কমে গেছে। জানি না এ রকম প্রখর রোদ আর কত দিন থাকবে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সবুর মিয়া জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। টানা বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দিনের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান, ফুলবাড়ীসহ কুড়িগ্রাম জেলা জুড়ে গত এক সপ্তাহ ধরে গড়ে তাপমাত্রা ৩৪ থেকে-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বিরাজ করছে।
