বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ধীরে এগোচ্ছে রপ্তানি বহুমুখীকরণ প্রকল্প

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২২, ০৫:০৫

ধীরে এগোচ্ছে রপ্তানি বহুমুখীকরণ প্রকল্প। যে কোন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দক্ষতার বিকল্প নেই। উৎপাদন, বিপণনকারী, মধ্যস্থতাকারীসহ সর্বস্তরের জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ। দক্ষ জনবল তৈরি করবে উন্নত মানের নতুন নতুন পণ্যসামগ্রী। আরেকদল দক্ষ কর্মী এসব পণ্য বাজারজাত করবে দেশে ও বিদেশে। এভাবে দেশের পণ্য ও বাজার উভয় বহুমুখীকরণ করা সম্ভব হয়। এসব বিবেচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন অ্যান্ড কম্পিটিটিভসেন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ইআইএফ টায়ার-২) শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। 

প্রকল্পটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেল কর্তৃক বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিন্তু প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির মাত্র সাড়ে ১১ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো রপ্তানি বহুমুখীকরণে অবদান রাখা এবং নির্বাচিত খাতসমূহ যেমন :তৈরি পোশাক খাত, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাত ও ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে এপিআই খাত রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা ও আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনা। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের আগস্ট হতে ২০২১ সালের জুলাই মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। পরবর্তী সময়ে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ৯৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার প্রকল্পটি ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ১১ শতাংশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। কারিগরি কার্যক্রমের ১৭টি মধ্যে ১১টির কার্যক্রম শুরুই হয়নি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জনবলের অভাব, ঘন ঘন প্রকল্প পরিচালক বদলি, যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে। তাছাড়া কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ায় প্রকল্পটির কার্যক্রম আরো পিছিয়ে যায়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটির নিবিড় পরিবীক্ষণ সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে কিছু সুপারিশও করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি প্রণয়নের সময় প্রকল্পের কর্মপরিধি ও ডিজাইন প্রণয়নে স্টেকহোল্ডারদের মতামত গ্রহণ ও বিশ্লেষণ যথাযথভাবে করা হয়নি। তাছাড়া প্রকল্পটি গ্রহণের পূর্বে কোন বেজলাইন স্টাডি বা নীড এসেসমেন্ট করা হয়নি। তাছাড়া দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য এই প্রকল্পের কার্যক্রমের যে পরিধি গ্রহণ করা হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়। মূলত তৈরি পোশাক খাত, এপিআই খাতে স্থানীয় প্রশিক্ষণ, বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, সেমিনারের আয়োজনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অথচ দেশে পাটজাত পণ্য, মৎস্য, সুতা, চামড়াজাত পণ্য ইত্যাদির মতো সম্ভাবনাময় খাত বাদ পড়েছে। প্রয়োজনীয় কর্মপরিধি প্রণয়নের মাধ্যমে এ সকল খাত অন্তর্ভুক্ত করা হলে এ সকল খাতে আরো দক্ষ জনবলের বিকাশ ঘটত এবং এসব খাতে রপ্তানি বহুমুখীকরণের অধিকতর সুযোগ তৈরি হতো।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দেশের যুবশক্তির একটা বিশাল অংশ প্রতি বছর কর্মক্ষমতা অর্জন করছে। তাদের প্রায় অর্ধেক দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। দেশের সার্বিক রপ্তানি উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে অনভিপ্রেত কোন নেতিবাচক অবস্থা মোকাবিলার স্বার্থে রপ্তানি পণ্য বাজার বহুমুখীকরণ নীতি সর্বাধিক গুরুত্বের দাবি রাখে। দেশে তৈরি পোশাক কারখানায় প্রায় ৮০ শতাংশ নারী কাজ করছে। তবে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি সত্ত্বেও কর্মসংস্থান কিছুটা থমকে আছে। টেক্সটাইল ও পোশাক খাতে ২০০৩-২০১০ সালে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে বার্ষিক ১২ শতাংশ হারে। কিন্তু ২০১০-২০১৫ সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে বার্ষিক মাত্র ১ শতাংশ হারে। বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়িকে বৈচিত্র্যময় করতে পারলে তৈরি পোশাক খাত ছাড়াও অন্য খাতগুলো অবদান রাখতে পারত।

ইত্তেফাক/ইআ