সিরাজগঞ্জে তীব্র গরমে ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর ছড়িয়ে পড়েছে। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি নানা বয়সী নারী-পুরুষরাও আক্রান্ত হচ্ছেন এ রোগে। কিছু দিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অবস্থা চলছে ।
বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এদের অধিকাংশই ঠাণ্ডা-জ্বর জনিত রোগী । এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকগুলিতেও এ সংক্রান্ত রোগিই বেশি।
জানা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন বয়সিদের মধ্যেও সর্দি-জ্বর, মাথা ব্যথা, বমিসহ ডায়রিয়াজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এই জ্বরে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা ও বমি হয় ।
সিরাজগঞ্জ শহরের মিরপুর এলাকার পল্লী চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম জানান, গত কিছু দিন ধরে এই জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে । প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
এখানে চিকিৎসা নিতে আসা হাসনা বেগম জানান, গত ৩/৪ দিন ধরে তার শিশুর জ্বর হয়েছে তাই ডাক্তারের কাছে ঔষধ নিতে এসেছি । তিনি আরো জানান তাদের আশপাশের অনেকেরই জ্বর দেখা দিয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হালিমা বেগম জানান, আমার গত ২ দিন যাবত জ্বর ও ঠাণ্ডা লেগেছে তাই হাসপাতালে এসেছি ডাক্তার দেখাতে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সিরাজগঞ্জেও সর্দি জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে । প্রতিদিনই এই সব রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। নিত্যদিনই সর্দি জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া জনিত কারণে এখন সর্দি-কাশি জ্বর হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার এই জ্বরের প্রকোপ অনেক বেশি। জ্বরের উত্তাপ বেশি হলে রোগির মাথায় প্রচুর পানি ঢালতে হবে। প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ মাত্রা মতো খেলে ৩/৪ দিনের মধ্যে বেশির ভাগ রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন। সর্দিজ্বর প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
