মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ক্যারিয়ার হিসেবে ই-স্পোর্টস বেছে ‍নিয়েছেন জুবায়ের রহমান

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২২, ১৫:৫৫

সাম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে করোনা মহামারিতে অনেক কিছু থমকে গেলেও অনলাইনভিত্তিক বিনোদন মাধ্যম অনেক জনপ্রিয় উঠেছে। ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় তেমনি একটি মাধ্যম হলো ই-স্পোর্টস। বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠা এই ইলেকট্রনিক স্পোর্টস সম্পূর্ণ ভার্চুয়ালি হয়ে থাকে। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গেমাররা নির্দিষ্ট কোনো ভিডিও গেমিং টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে থাকেন।

বাংলাদেশে বিগত বছরগুলোতে ই-স্পোর্টস প্লেয়ার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। নানারকম নেতিবাচকতা থাকা স্বত্বেও অনেকে এটিকে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবেও বেছে নিচ্ছেন বর্তমানে। তেমনি একজন হলেন জুবায়ের রহমান। পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার হলেও নিজের ধ্যানজ্ঞান এ গেমিং ধারণ করেন সবসময়। ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর বিএসসি শেষ করে বর্তমানে একজন সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার এবং এসইও স্পেশালিষ্ট হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

২০১৭ সালের দিকে যেখানে ই-স্পোর্টস এর নিয়মিত এবং অনিয়মিত দর্শক সংখ্যা ছিল ৩৩৫ মিলিয়ন, সেটি ২০২২ সালে প্রায় ৬৬৫ মিলিয়নে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালের শেষে ই-স্পোর্টস মার্কেটপ্লেসের রাজস্ব প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুবায়েরসহ অনেক বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী স্বপ্ন দেখেন এই খাতে সফল হওয়ার। অনেক আগ থেকেই জুবায়ের এর ছিল গেমিংয়ের প্রতি ভালোলাগা। এরপর অফিশিয়ালি বাংলাদেশ পাবজি কমিউনিটির সঙ্গে গত ৩ বছর যাবত যুক্ত রয়েছেন। ২০২১ সাল থেকে তিনি সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ভিডিও স্ট্রিমিং করা শুরু করেন। ‘জুবি প্লেস’ নামক ফেসবুক এবং ইউটিউব থেকে তিনি লাইভ স্ট্রিমিং করে থাকেন।

শুরু থেকেই নানাভাবে বাধার সম্মুখীন হতেন। পরিবার কিংবা আত্মীয়-স্বজন, সবার কাছ থেকেই শুনে এসেছেন-গেম খেলার আবার ভবিষ্যৎ আছে নাকি? তাছাড়াও প্রথম দিকে বেশ কম সংখ্যক মানুষজন তার ভিডিও স্ট্রিমিং দেখতেন। এগিয়ে চলার সাহস পেতেন না সেভাবে। কিন্তু পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সবাই বুঝতে শুরু করেন এবং তিনি সবার সহযোগিতায় বর্তমানে একজন অন্যতম ই-স্পোর্টস প্লেয়ার।

‘দেশে এবং দেশের বাইরের অনেকজনকে দেখে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। সবসময় অনুপ্রাণিত হয়েছি তাদের থেকে, থমকে যাওয়ার কথা মাথায় আসলে তাদের অনুপ্রেরণায় নিজেকে আবার নতুন উদ্যমে তৈরি করার কাজে নেমে পড়তাম’-জানান জুবায়ের আহমেদ।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জুবায়ের রহমান জানান, ‘আসলে প্যাশন থেকে যদি ভালো কিছু হয়, আমি সেটিই করতে চাই। নিজেকে একজন পরিপূর্ণ ই-স্পোর্টস প্লেয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দেশের হয়ে বিভিন্ন গেমিং টুর্নামেন্টগুলো জিততে চাই।’

‘জুবি প্লেস’ এর মতো গেমিং প্লাটফর্ম হাজারো বেকার তরুণ-তরুণীর জন্য আশার দুয়ার খুলে দিতে পারে। এতে তারা স্বাবলম্বী যেমন হতে পারবে, তেমনি বিশ্বের দুয়ারে বাংলাদেশের পতাকাও উঁচিয়ে ধরতে সক্ষম হবে।

ইত্তেফাক/এএএম