পাখি

শকুন

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ১৯:৪১

হারিয়ে যাচ্ছে শকুন। এক সময় সর্বত্র শকুন দেখা যেত। সত্যি কি শকুন বিলুপ্ত হবে? বন্যপ্রাণী ও পাখি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শকুনের জাত রক্ষা করা না গেলে কয়েক বছরের মধ্যে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাবে শকুন। বাস্তবে নয়, তখন বইয়ে ছবি দেখে শকুন চেনাতে হবে শিক্ষার্থীদের। প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে এখনো কোনোভাবে টিকে আছে সরু ঠোঁট প্রজাতির শকুন। শকুন মৃত পশুপাখি খেয়ে পরিবেশদূষণ কমায়। একইসঙ্গে অ্যানথ্রাক্সসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়ানোর হাত থেকেও পরিবেশকে রক্ষা করে। এ কারণে শকুনকে বলা হয় ‘প্রকৃতির সুইপার’। গোটা পৃথিবীতে ২৩ প্রজাতির শকুন থাকলেও বাংলাদেশে দেখা যায় মাত্র সাত প্রজাতি। বর্তমানে তাও বিলুপ্তপ্রায়।

আশির দশকে পটুয়াখালী জেলা ও গলাচিপা উপজেলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাগুলোতে নদ-নদীর চরে  দেখা যেত শকুনের ঝাঁক। গরু মহালের আকাশে ছায়া ফেলে চক্কর দিত শকুন-শকুনিরা। এরা অশুভ তো নয়ই, হিংস্রও নয়। চিল, ঈগল বা বাজপাখির মতো শিকারিও নয়। এরা আমাদের পরিবেশের পরম বন্ধু। মৃত পশু  খেয়ে শকুন আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। শকুন কখনোই মানুষকে আক্রমণ করে না। প্রখর দৃষ্টিশক্তির অধিকারী পাখিটি বটগাছ, কড়ইগাছ, শিমুল, বাঁশঝাড়, দেবদারু গাছে বাসা বানাত। এদের দৃষ্টি এতটাই প্রখর যে, অনেক উঁচু থেকেও এরা মাটি বা পানির ওপরে থাকা খাবার দেখতে পায়। এ পাখি একসঙ্গে ১৫ থেকে ২০টি ডিম পাড়ে। তিন সপ্তাহ তা দেওয়ার পর বাচ্চা ফোটে। এর স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ২৫ বছর। তিন থেকে চার ফুট উচ্চতা হয় এই পাখির। সত্তরের দশক থেকে এ পর্যন্ত শকুন হ্রাসের পরিমাণ প্রায় ৯৮ শতাংশ।

মৃত পশুর মাংস শকুনের কোনো ক্ষতি করে না। কিন্তু ডাইক্লোফেনাক দেওয়া হয়েছে এমন মৃত পশুর মাংস খেলে কিডনি নষ্ট হয়ে ২-৩ দিনের মধ্যে শকুনের মৃত্যু ঘটে। এ কারণে গত তিন দশকে উপমহাদেশে ৯৭% শকুন মারা গেছে। বর্তমানে শকুন বিলুপ্তপ্রায়। তাই শকুনকে এ বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।