সেই অধ্যক্ষের কথোপকথনে এমপির মারধরের বিবরণ

 অডিও ফাঁস করলেন এক আওয়ামী লীগ নেতা

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২২, ০১:৫৬

এবার সেই অধ্যক্ষের কথোপকথনের অডিও ফাঁস করলেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। গতকাল শনিবার নগরীর লক্ষ্মীপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত অডিওটি অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজাকে মারধরের পর এক আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে ভুক্তভোগীর ফোনালাপ বলে দাবি করা হয়েছে। ফোনালাপের অপর প্রান্তে আওয়ামী লীগ নেতা কে? আসাদুজ্জামান আসাদ নিজেই, নাকি অন্য কেউ তা পরিষ্কার করেননি। তবে ফোনালাপে অধ্যক্ষ তাকে মারধরের ঘটনার বর্ণনা দেন।

উল্লেখ্য, রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী গত ৭ জুলাই তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সারা দেশে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ১৪ জুলাই অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে নিয়ে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ওমর ফারুক চৌধুরী। সেখানে অধ্যক্ষ সেলিম রেজা দাবি করেন, এমপি তাকে মারধর করেননি। আর গোদাগাড়ীর মাটিকাটা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল আউয়াল রাজু দাবি করেন, এমপি নন, তিনিই এমপির সামনে সেলিম রেজাকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। এতে আলমারিতে ধাক্কা লেগে তিনি আহত হন।

অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে নিয়ে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ওমর ফারুক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

ফাঁস হওয়া অডিওতে শোনা যাচ্ছে, ‘ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ (সেলিম) অন্যজনকে বলছেন, সেদিন এমপির অফিসে যাওয়ার জন্য অধ্যক্ষ আবদুল আউয়াল রাজু অন্য অধ্যক্ষদের ডেকেছিলেন। যার সঙ্গে কথোপকথন, সেই আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষকে প্রশ্ন করেন, তারপর আপনি গেলেন? অধ্যক্ষ বলেন, হ্যাঁ গেলাম।... সেখানে ঢুকতেই প্রথম কথা। আমাকে বলছেন, সেলিম, তোমার কলেজে কী হয়েছে? আমি বলছি, কই স্যার? কিছু তো হয়নি। তখনই গালি (প্রকাশের অযোগ্য)। তোর অফিসে বসে আমার নামে, রাজুর পরিবার নিয়ে, আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলিস, টিচাররা কথা বলে। তুই আমাকে না বলে, ঐ টিচারদের বিচার না করে...এই উঠে এসেই মনে করেন যে কিল, ঘুষি, লাথি। অধ্যক্ষ বলেন, বারবার উঠছে-বসছে, মারছে। বলছে, এই হকিস্টিক নিয়ে আয়। শালাকে হকিস্টিক দিয়ে মেরেই ফেলব। শালাকে আজ মেরেই ফেলব, শালা আমার বিরুদ্ধে কথা বলে।’

এই কথোপকথনের বিষয়ে জানতে ভুক্তভোগী অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীকে ফোন করা হলে তিনিও ধরেননি।

রাজাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ। ছবি: সংগৃহীত

এদিকে অধ্যক্ষকে পেটানোর ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল হোসেন বলেন, বিষয়টা আমরা সিরিয়াসলি তদন্ত করছি। তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলছি না।

প্রসঙ্গত, এর আগেও এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুই কলেজের অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। তাদের একজনকে নিজ হাতে, অন্যজনকে তার মদতে অন্যরা মারেন বলে জানা যায়। 

ইত্তেফাক/এএএম