দেশের অন্যতম কাঁচা মরিচ উৎপাদনকারী এলাকা হচ্ছে পশ্চিমের ছয় জেলা। হঠাৎ করে কাঁচা মরিচের ফলন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কোথাও কোথাও প্রতি কেজির দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অথচ এ সময় কাঁচা মরিচের ভরা মৌসুম। অন্যান্য বছর এ সময় মরিচের এত দরপতন হয় যে, খেত থেকে মরিচ তুলে হাটে বিক্রির পর চাষির লাভ থাকে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলায় ৬৫৫ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ১ হাজার ৭২৪ হেক্টরে, মাগুরা জেলায় ৭০৮ হেক্টরে, কুষ্টিয়া জেলায় ৩ হাজার ৭৫ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় এক হাজার ১৬১ হেক্টরে ও মেহেরপুর জেলায় ৪ হাজার ৯৫ হেক্টরে মরিচ চাষ হয়েছে। চাষিরা বলছে, খরার কারণে গাছে মরিচ কম ধরছে। ডগা শুকিয়ে গাছ কুঁকড়ে গেছে। ফুল-ফল ঝরে পড়ছে। এতে উৎপাদন কমে গেছে।
শনিবার ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার অচিন্তপুর গ্রামের চাষি মোক্তার হোসেন বলেন, ৮ কাঠা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। মাত্র আড়াই কেজি মরিচ হয়েছে। খরার কারণে গাছে কম মরিচ ধরছে। ফুল-ফল ঝরে পড়ছে। এছাড়াও গাছ কুঁকড়ে গেছে। আর কৃষ্ণনগর গ্রামের চাষি আব্দুর রহিম বলেন, তার খেতে সাদা যাব পোকার আক্রমণ হয়েছে। ফুল পাতার রস শুষে খাচ্ছে। মরিচ ধরছে না।
মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান জানান, তাদের এলাকাতে খরার কারণে মরিচ কম ধরছে। এতে কাঁচা মরিচের বাজার চড়ে গেছে।
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ অফিসার মো. আনিসুর রহমান বলেন, খরার কারণে মরিচ গাছে ফুল-ফল কম ধরছে। যাব পোকার আক্রমণেও ফল কম ধরছে। পোকা দমনে চাষিদের কীটনাশক ছিটানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক মো. আজগর আলি বলেন, অসময়ে খরার কারণে মরিচ গাছে ফুল-ফল কম ধরছে। বৃষ্টি হলে মরিচের উৎপাদন বাড়বে বলে তিনি জানান।
