রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পশ্চিমের আধিপত্য শেষ হচ্ছে, চীনের উত্থান ঘটছে: টনি ব্লেয়ার

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২২, ১৪:০৯

বিশ্বজুড়ে পশ্চিমের আধিপত্যের অবসান ঘটছে। একইসঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পরাশক্তি হিসেবে উত্থান ঘটছে চীনের। যা এই শতাব্দীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এমন মন্তব্য করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা প্রায় পাঁচ মাস ধরে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বন্দ্ব যখন চরমে ঠিক তখনই এই মন্তব্য করলেন ব্রিটেনের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

ব্লেয়ার বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি বা সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সঙ্গে বিশ্ব ইতিহাসের একটি বাঁক বদল হয়েছিল। এবারের ঘটনাকে (ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন) আগের দু’টি ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা গেলেও এবার পশ্চিমারা স্পষ্টতই ওপরের অবস্থানে নেই।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বে এতোদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্য দেখে আসলেও আমরা এখন সেটির সমাপ্তিতে আসছি।’

রয়টার্স বলছে, ‘ইউক্রেনের পরে, পশ্চিমা নেতৃত্বের জন্য এখন কী শেখার আছে?’ শীর্ষক বক্তৃতায় টনি ব্লেয়ার এসব কথা বলেন। লন্ডনের পশ্চিমে ডিচলে পার্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে জোটকে সমর্থনকারী একটি ফোরামে বক্তৃতায় ব্লেয়ার আরও বলেন, ‘বিশ্ব কমপক্ষে দ্বি-মেরু এবং সম্ভবত বহু-মেরুভিত্তিক হতে চলেছে। এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন রাশিয়া নয় চীনের কাছ থেকেই আসবে।’

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রায় পাঁচ মাসে ইউক্রেনে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ ঘর-বাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছেন। এছাড়া রুশ আগ্রাসনে ইউক্রেনের সামরিক-বেসামরিক অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রুশ আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত মারিউপোলের আবাসিক ভবন। ফাইল ছবি

১৯৬২ সালের কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পর থেকে রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে সম্পর্ক সবচেয়ে গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে। অনেকের আশঙ্কা, রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে এই দ্বন্দ্বে বিশ্ব হয়তো পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়ার অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে কার্যত মস্কোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পশ্চিমারা এবং ক্রেমলিন বলছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় চীন ও ভারতের মতো শক্তির ঘনিষ্ঠ হবে রাশিয়া।

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের দাবি, ইউক্রেনের যুদ্ধ এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পশ্চিমারা আর চীনের ওপর নির্ভর করতে পারে না। তার ভাষায়, কোনো বিষয় আমরা যেভাবে যুক্তিযুক্ত বিবেচনা করব চীনও যে সেভাবে আচরণ করবে, সেটি পশ্চিমারা বেইজিংয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে না।

রয়টার্স বলছে, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন এবং পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার ‘অপব্যবহারের’ সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে পুতিনও চীনের সাথে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ ঘোষণা দিয়ে সুর মিলিয়েছেন।

ইত্তেফাক/টিআর