বিদায় বলে দিলেন ‘যোদ্ধা’ যুবরাজ

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ২১:১৭

স্পোর্টস রিপোর্টার

ভারতের আধুনিক ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠতম অলরাউন্ডার এবং গত দুই দশকে দলটির বেশিরভাগ বড় ট্রফির নেপথ্য নায়ক ছিলেন যুবরাজ সিং। ক্রিকেট যুদ্ধের মতো জীবন যুদ্ধেও অসাধারণ এক প্রেরণা যুবরাজ। ক্যান্সার জয় করে আবার ক্রিকেট মাঠে ফেরার পর যাওয়া আসার মধ্যে থাকা এই মারকুটে অলরাউন্ডার অবশেষে ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে দিলেন। গতকাল মুম্বাইতে এক সংবাদ সম্মেলনে যুবরাজ জানিয়েছেন, অন্তত আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট ও আইপিএলে তিনি আর অংশ নেবেন না।

২০০০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে দ্রুত জাতীয় দলে চলে এসেছিলেন যুবরাজ। এরপর প্রায় দুই দশক জাতীয় দলের হয়ে অনেক উত্থান পতনের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমার ক্যারিয়ার ছিলো অসাধারণ একটা রোলার কোস্টার সফরের মতো। এটা অসাধারণ একটা গল্প। কিন্তু কখনো না কখনো এটা শেষ হতে হতো। আমার মনে হচ্ছে, এটাই চলে যাওয়ার সঠিক সময়।’

যুবরাজ ভারতীয় বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে এসেছেন। ২০০০ সালের যুব বিশ্বকাপে ২০৩ রান করে এবং বাহাতি স্পিনে আটোসাটো বল করে হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। ওই বছরই তিনি জাতীয় দলে নিজের জায়গা করে নেন। যুবরাজ যে সিনিয়র দলেও থাকতে এসেছেন, এটা প্রমাণ করতে খুব একটা সময় নেননি। সৌরভ গাঙ্গুলির দলের হয়ে আইসিসি নক আউট বিশ্বকাপে অভিষেকেই দারুণ পারফরম করেন। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮০ বলে ৮৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন। পরের বছর ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনালে ৩২৭ রান তাড়া করতে গিয়ে টপ অর্ডারে ধসের পর যুবরাজের ৬৩ বলে ৬৯ এক ঐতিহাসিক জয় এনে দেয় ভারতকে। আর এটাই ভারতীয় দলে যুবরাজের দল পাকা করে দেয়।

২০০৩ সালে টেস্ট অভিষেক হয় যুবরাজের। কিন্তু এই ফরম্যাটে কখনোই খুব দাঁত বসানোর মতো কিছু করতে পারেননি। ৪০ টেস্টে ১৯০০ রানের পাশাপাশি ৯টি মাত্র উইকেট নিতে পেরেছেন।

কিন্তু ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে যুবরাজ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ভারতের ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ট ব্রডকে ছয় ছক্কা মেরে বিশ্ব রেকর্ড করার পাশাপাশি দলের শিরোপা জয়ে ছিলো অসামান্য অবদান।

তবে যুবরাজের সেরা সময়টা বিশ্ব দেখেছে ২০১১ সালে। ঘরের মাটির বিশ্বকাপে একটি সেঞ্চুরি, চারটি ফিফটিসহ ৩৬২ রান করেছিলেন। পাশাপাশি নেন ১৫ উইকেট। চারটি ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়ার পাশাপাশি ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছিলেন। আর এই চরম উত্থানের পরই জীবনের আরেক রূপ দেখেছিলেন যুবরাজ।

বিশ্বকাপের সময় অসুস্থতা নিয়েই খেলেছেন। বিশ্বকাপের পর পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে তার ফুসফুসে ক্যান্সার হয়েছে। এই ক্যান্সারের সাথে লড়াই চালিয়ে আবার মাঠে ফিরে আসেন তিনি। ২০১২ সালের শেষ দিকে ফেরার পর পরের এক বছর পারফরম্যান্স ছিলো মাঝারি। ২০১৩ সালে বাদ পড়েন দল থেকে। চার বছর পর দলে ফিরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৫০ রানের এক অতিমানবীয় ইনিংস খেলেন। তারপরও ক্যারিয়ারটা আর লম্বা হয়নি।

২০১৭ সালের ৩০ জুন জাতীয় দলের হয়ে শেষ ওয়ানডে খেলেছেন। সবমিলিয়ে ৩০৪ ওয়ানডেতে ৮,৭০১ রান করেছেন এবং ১১১টি উইকেট নিয়েছেন। পাশাপাশি ৫৮টি টি-টোয়েন্টিতে ১,১৭৭ রান করেছেন এবং ২৮টি উইকেট নিয়েছেন। ঝলমলে ক্যারিয়ারের সমাপ্তি হয়ে গেলো ভারতের আরেকটা বিশ্বকাপ অভিযান চলা অবস্থাতেই।