জনশক্তি রপ্তানির নেই কোনো লাইসেন্স। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানির নামে অবৈধভাবে ভ্রমণ ভিসার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে বিভিন্ন বয়সি মানুষ পাঠিয়ে আসছে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপে জনশক্তি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশ গমনেচ্ছুক বেকার যুবক ও নারীদের কাছ থেকে ৫ হতে ৭ লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিত। এরপর ভুয়া ভিসা এবং নকল বিএমইটি কার্ড ভুক্তভোগীদের হাতে ধরিয়ে দিত।
ভুক্তভোগীরা নকল ভিসা এবং নকল বিএমইটি কার্ড নিয়ে বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেয়। ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে প্রতিকার চাইলে আসামি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। অবশেষে এই প্রতারক চক্রের মূলহোতা আবুল কালাম (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১৪টি পাসপোর্ট, ছয়টি নকল বিএমইটি কার্ড, আর্থিক লেনদেনের বিভিন্ন লেজার, রেজিস্ট্রার এবং ডায়েরি উদ্ধার করা হয় হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান।
আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, গত তিন বছরে সে অবৈধভাবে অর্ধশতাধিক লোককে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়েছে। যারা বিদেশ গিয়ে কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অন্যদিকে তিন শতাধিক লোককে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৫-৭ লাখ টাকা করে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে।
তার লেখাপড়া চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত। ২০০৪ সালে ফ্রি ভিসায় দুবাই গিয়ে দর্জি হিসেবে কাজ শুরু করে। মালিকের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় ২০১১ সালে সে দেশে ফিরে আসে। তারপর সে তার এলাকায় দর্জি ব্যবসা করার চেষ্টা করে সফল না হওয়ায় ২০১৯ সাল হতে অবৈধভাবে জনশক্তি বিদেশে প্রেরণ এবং প্রতারণা শুরু করে। সে প্রথমে ভিকটিমদের ইউরোপে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাসপোর্ট এবং প্রাথমিক খরচ বাবদ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে থাকে। তারপর ভিসা, টিকিট, মেডিক্যাল, বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদির খরচ দেখিয়ে ধাপে ধাপে ভিকটিমদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে থাকে।
র্যাব-৩-এর অধিনায়ক আরো বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আবুল কালাম সংঘবদ্ধ মানব পাচার ও প্রতারক চক্রের সদস্য। চক্রটির আরো ছয়-সাত জন সদস্য রয়েছে।
বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর কথা বলে এমন মূলহোতা এর আগেও গ্রেফতার হয়েছে। এরপরেও এমন প্রতারণা থামছে না কেন। এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক বলেন, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। যারা বিদেশ যেতে চান তাদের সচেতন হতে হবে। জনশক্তি রপ্তানির সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্ট ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে শ্রমিক হিসেবে বিদেশ যাওয়া বন্ধ করতে হবে। আর যারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য দিতে হবে।
