ডোম-ইনোর ভয়ংকর প্রতারণা: কেউ নিঃস্ব, কারো কারো মৃত্যু

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০০

‘মাঝেমধ্যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। চিন্তায় চিন্তায় আমার চিকিত্সকপুত্র অর্থোপেডিক সার্জন ডা. খালেদ মোশাররফ মারা গেছে। আমার দুই বোনও মারা গেছে। আজ সাড়ে ১৮ বছর ধরে ভুগছি। জানি না মুক্তির উপায় কী! কবে পাবো নিজের বাড়িঘর!’

কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তন শিক্ষক সুফিয়া খাতুন। তার বয়স ৮০ বছরের বেশি। শনিবার (১ আগস্ট) ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে সুফিয়া খাতুন জানান, রাজধানীর শান্তিনগরে তাদের পারিবারিক বাড়ি ছিল। সেই প্লটে উঁচু ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে ডেভেলপার কোম্পানি ‘ডোম-ইনো বিল্ডার্স লিমিটেড’-এর সঙ্গে চুক্তি হয় ২০০৭ সালে। কথা ছিল তিন বছরের মধ্যে ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হবে। জমির মালিক হিসেবে তিনিসহ ওয়ারিশরা পাবেন অর্ধেক সংখ্যক ফ্ল্যাট, বাকিটা পাবে কোম্পানি। বাড়ি ভেঙে কোম্পানি প্লট বুঝে নেয়। সেখানে কয়েক তলার স্ট্রাকচার নির্মাণ করা হলেও বছরের পর বছর আর কাজ করছে না।

তিনি জানান, প্লটের ওয়ারিশ তার দুই বোন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে করতে একসময় মারা যান নিজের চিকিৎসক সন্তানও। ডোম-ইনোর নির্মিত স্ট্রাকচার বছরের পর বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় সেখানে ময়লা পানি জমেছে, যেখানে এখন সাপ আর মশা-মাছির বাস। কোম্পানির মালিককেও খুঁজে পান না। উলটো নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সুফিয়া খাতুন জানান, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা আস্তরবিহীন স্ট্রাকচার এখন ব্যবহারের অনুপযোগী বলে পরীক্ষায় দেখা গেছে। এখন এর সমাধান কী—তা জানা নেই সুফিয়া খাতুনের।

শান্তিনগরে সুফিয়া খাতুনের সঙ্গে ডোম-ইনোর চুক্তি হওয়া প্রকল্পের নাম ‘ডোম-ইনো-এসকাপেরেট’। চুক্তি মোতাবেক কাজ না করায় আর্বিটেশন কোর্ট কোম্পানিকে দেওয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিল এবং ১৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। এর বিরুদ্ধে ডোম-ইনো আপিল করেছে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে। আপিল খারিজের আবেদন জানিয়েছেন সুফিয়া খাতুন। আজ রবিবার এর আদেশ হওয়ার কথা রয়েছে।

ডোম-ইনোর এরকম ভয়ংকর প্রতারণার শিকার শুধু সুফিয়া খাতুনই নন। অন্তত ৮০ জন জমির মালিকের প্রায় অভিন্ন দশা। সবার বাড়ি ভেঙে জমি দখলে নিয়ে ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যেও ভবন নির্মাণ করেনি ডোম-ইনো। নিজেদের বাড়ি ভেঙে জমি কোম্পানিকে বুঝিয়ে দিয়ে বছরের পর বছর ধরে থাকতে হচ্ছে ভাড়া বাসায়। এসব প্লটে একসময় কারো নিজেদের দোতলা, পাঁচতলা ভবন ছিল। নিজেরা বসবাস করতেন, বাসা ভাড়াও পেতেন। কেউ কেউ দোকান-অফিসের ভাড়াও পেতেন। সব হারিয়ে এখন নিজেরাই অন্যের ভাড়াটিয়া। একসময় সচ্ছল জীবন-যাপনকারী এই পরিবারগুলো এখন কোনোভাবে জীবন-যাপন করছেন। তাদের প্রত্যেকেই বয়স্ক। কখন নিজের জমিতে ভবন দেখতে পারবেন জানেন না। মৃত্যুর আগে দেখে যেতে পারবেন কি না, সেটিও অজানা। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন শত শত ফ্ল্যাট ক্রেতা। যাদের অনেকে সমুদয় অর্থ কোম্পানিকে পরিশোধ করেছেন। সব মিলিয়ে হাজারো পরিবারের স্বপ্ন আটকে গেছে ডোম-ইনোর প্রতারণার ফাঁদে। ভবন-ফ্ল্যাটের সুরাহা পেতে তাদের অনেকেরই এখন দিন কাটে আদালতের বারান্দায় আর থানাপুলিশের কাছে ধরনা দিতে দিতে। কোথায় যাবেন, কার কাছে বিচার চাইবেন—জানেন না তারা। ভবন নির্মাণের জন্য ডোম-ইনোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ অনেকে ইতিমধ্যে মারাও গেছেন।

ভুক্তভোগী অন্তত ১৫ জন প্লট মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডোম-ইনোর মালিক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অন্তত ১৩৬টি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় কিছুদিন আগে তার চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র দায়রা জজ। দুটি আরবিটেশন মামলায় ১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা করে জরিমানা হয়েছে তার। এই দুটি মামলায় জমির মালিকের দেওয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নিও বাতিল করেছে আরবিটেশন কোর্ট। শতাধিক মামলার মধ্যে অন্তত ১৭টিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এসব দণ্ড ও পরোয়ানা মাথায় নিয়ে অফিস-বাসা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ডোম-ইনোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম এবং তার স্ত্রী ও কোম্পানির চেয়ারম্যান রিজওয়ানা ইসলাম।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে ‘ডোম-ইনো-আলবা’ নামে প্রকল্পে চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করায় রিয়েল এস্টেট আইনে করা মামলায় আব্দুস সালামের চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পরোয়ানা গত ২১ জুলাই বনানী থানা গ্রহণ করেছে। অথচ, থানার পাশেই বনানীর এফ ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ১৩ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ‘ডোম-ইনো হাউজ’-এ প্রায়ই অফিস করছেন ‘পলাতক’ আব্দুস সালাম।

অন্যদিকে, আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রী রিজওয়ানা ইসলাম এসব প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেন। রিজওয়ানা ইসলাম গত ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাইও আদালতে গেছেন মাস্ক ও বোরকা পরে। প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও রিয়েল এস্টেটের মামলায় আব্দুস সালাম গত বছরের মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। তার স্ত্রীও জেলে ছিলেন গত বছরের এপ্রিলে।

রাজধানীর পান্থপথে ‘ডোম-ইনো-মুজিব ভবন’ প্রকল্পেও চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করায় মামলা করেন ভুক্তভোগীরা। আর্বিটেশন কোর্ট ডোম-ইনোকে ১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে, একই সঙ্গে কোম্পানিকে দেওয়া জমির মালিকের পাওয়ার অব অ্যাটর্নিও বাতিলের আদেশ দিয়েছেন। মতিঝিলে ‘ডোম-ইনো-ইমপিরিকো’ প্রকল্পে প্রতারণার মামলায়ও আর্বিটেশন কোর্ট ১১ কোটি টাকা জরিমানা করেছে এবং প্রকল্প শেষ করার আদেশ দেন।

মহাখালী ডিওএইচএস-এ ‘ডোম-ইনো-উদবেরি’ প্রকল্পে একটি ফ্ল্যাট কিনতে ডোম-ইনোকে ৫ কোটি টাকা দিয়েছিলেন  অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব মমিনুল ইসলাম তালুকদার। ফ্ল্যাট না পেয়ে প্রতারণার শিকার এই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আদালতে মামলা করেছেন। আগামী মঙ্গলবার এসিএমএম-২ আদালতে এই মামলার রায় হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।

আদালতের রায় ও পরোয়ানা- কিছুরই তোয়াক্কা করেন না ডোম-ইনোর মালিক আব্দুস সালাম দম্পতি। এমনকি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নিয়মবিধিও মানছে না কোম্পানিটি। জানা গেছে, রাজউকের প্ল্যান পাশ ছাড়াই অন্তত ২৫টি প্রকল্পে উঁচু ভবন নির্মাণ করেছে ডোম-ইনো। এর মধ্যে শান্তিনগরে ‘ডোম-ইনো-প্রমেসা’ প্রকল্পে একটি ভবনে ২০টির অধিক ফ্লোর নির্মাণ করা হয়েছে, যেটির অনুমোদন নেই রাজউকের। মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডেও একাধিক প্রকল্পে উঁচু ভবন নির্মাণ করেছে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই।

বনানীর আমতলিতে জমির মালিকের স্বাক্ষর জাল করে তা রাজউকে দাখিলের মাধ্যমে ‘ডোম ইনো-পেনমবোরা’ প্রকল্প করেছে ডোম ইনো। জমির মালিক জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। পরে দুদক মামলা করেছে। এই মামলায় বর্তমানে সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ষাটোর্ধ বয়সি শায়লা রহমান ইত্তেফাককে জানান, ধানমন্ডিতে তাদের এক বিঘার প্লটে কয়েকটি উঁচু ভবন নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালে চুক্তি হয় ডোম-ইনোর সঙ্গে। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে সবগুলো ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। তবে, ২০ বছরে মাত্র দুটি ভবনের স্ট্রাকচার হয়েছে। পুরো জায়গাটি এখন ময়লা পানির ডোবা, মশা-মাছির আস্তানা। ভবন নির্মাণের আগেই কোম্পানি সেখানে অনেকের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি করে টাকা নিয়েছে। এখন জমির মালিক ও ফ্ল্যাট ক্রেতাদের মাথায় হাত। কবে স্বপ্নের ভবন-ফ্ল্যাট পাবেন সেটি শুধু অজানাই নয়, পুরো অনিশ্চিত।

শায়লা রহমান বলেন, ‘নিজেদের জমি ও বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। অসুস্থ ছোট ভাইটি অর্থের অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না, বাসা ভাড়া দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। কোম্পানির মালিককে খুঁজে পাচ্ছি না, তার অফিসে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায় না। যখন চুক্তি করেছিলাম তখন আমরা সব ভাইবোন বেঁচে ছিলাম। এখন আছি মাত্র দুই জন। মারা যাওয়া ভাইবোনেরা নিজেদের জমিতে স্বপ্নের ভবন দেখে যেতে পারলেন না। আমরাও মৃত্যুর আগে দেখতে পারব কিনা জানি না। এর সমাধান কী সেটাও জানি না।’

৫৫ নম্বর নয়াপল্টন প্লটটির মালিক মঈনুল আলম। ৩০ কাঠার এই বাড়িতে তাদের পরিবারের পাঁচতলা করে চারটি বাড়ি ছিল। সব মিলিয়ে ছিল ২১টি ফ্ল্যাট। মালিকরা চার জন চারটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকতেন। বাকি ১৭টি ফ্ল্যাটের ভাড়া পেতেন তারা। পাঁচটি উঁচু ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ১ মার্চ চুক্তি হয় ডোম-ইনোর সঙ্গে। তিন বছরের মধ্যে ভবন নির্মাণ শেষ করার কথা থাকলেও ১৯ বছরে মাত্র দুটি ভবনের স্ট্রাকচার নির্মাণ হয়েছে, তিনটি ভবনের ছাদ হয়নি। ভবনগুলোর ভেতরে কোনো কাজও হয়নি।

একসময় বিদেশি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করা মঈনুল আলম ইত্তেফাককে জানান, তারা ছয় জন জমির মালিক ২০১১ সাল থেকে ভাড়া বাসায় থাকছেন। পরিত্যক্ত নোংরা অবস্থায় ভবনগুলো এভাবে পড়ে থাকায় সেখানে নিয়মিত চলছে মাদকের কারবার। তিনি জানান, ভবন নির্মাণ শেষ না করলেও ডোম-ইনো সেখানে ৪৫টি ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি করে ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছে। তারাও এখন আদালতে আর পথে-পথে ঘুরছেন।

ফ্ল্যাট বিক্রির চুক্তি করে শত শত মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারেও দুদকে অভিযোগ রয়েছে। এই আব্দুস সালাম হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লার সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর খানের ভাই। জানা গেছে, ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখাতে কয়েক মাস আগে বাবলু চৌধুরী নামে একজনকে পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছে ডোম-ইনো। বাবলু চৌধুরীর বাড়ি গোপালগঞ্জে। জানা গেছে, এই বাবলু চৌধুরী প্রায়ই ভারতে গিয়ে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের কাছে আব্দুস সালামের টাকা পৌঁছে দেন। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ এমন অভিযোগও করেছেন, আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় ফিরবে, তখন দেখে নেওয়া হবে বলেও ভুক্তভোগীদের হুমকি দিচ্ছেন আব্দুস সালাম।

ডোম-ইনোর ভয়ংকর প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা জানান, বিদ্যমান আইনটি ডেভেলপারের পক্ষে। চুক্তি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনে জমির মালিক ও ফ্ল্যাট ক্রেতাদের যথাসময়ে ফ্ল্যাট প্রাপ্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। এখন এমন বিপদের মধ্যে পড়েও তারা চুক্তি বাতিল করতে পারছেন না। আইনে সেই সুযোগও নেই। তাদের দাবি, ভবন নির্মাণের জন্য যেই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি তারা কোম্পানিকে দিয়ে থাকেন সেটি লাইফ টাইম। সরকারের উচিত এই আইনে সংশোধনী এনে জমির মালিক ও ফ্ল্যাট ক্রেতাদের যথাসময়ে প্রাপ্য নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে ডোম-ইনোতে প্রশাসক বসিয়ে উদ্ভূত সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে তারা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

ডোম-ইনোর এই ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাজউকের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ভুক্তভোগীরা। রাজউক তদন্ত করে সত্যতাও পায়। কিন্তু পরে আর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ভুক্তভোগীরা জানান, ডোম-ইনোর প্রধান কার্যালয় ‘ডোম ইনো হাউজ’-এ গিয়ে এখন তারা আর কারো দেখা পান না। মালিক আব্দুস সালাম পলাতক। অফিসের বেশির ভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও তিনি ছাঁটাই করে দিয়েছেন। মাঝেমধ্যে অফিস খুললেও কর্মচারীদের কেউ কিছু বলতে পারছেন না, কেউ কোনো দায়িত্বও নিচ্ছেন না।

নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীরা সম্প্রতি রাজধানীর আরামবাগে আব্দুস সালাম ও তার স্ত্রীর বিচার দাবিতে সমাবেশ করেছেন। সমাবেশে ভুক্তভোগী মঈনুল আলম বলেন, ডোম-ইনোর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে আজ হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে। অনেক জমির মালিক ও ফ্ল্যাট ক্রেতা ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। ডোম-ইনোতে দ্রুত প্রশাসক বসিয়ে ভুক্তভোগীদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি দাবি জানান।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য ডোম-ইনোর মালিক আব্দুস সালামের নম্বরে বারবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার হোয়াটঅ্যাপ নম্বরে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে কোম্পানির মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মো. আফজাল শনিবার ইত্তেফাককে বলেন, ‘অনেক প্রকল্প নিয়ে মামলা থাকায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। বাজারে ভবন নির্মাণ পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেও প্রকল্প সম্পন্ন করতে সমস্যা হচ্ছে।’ রাজউকের নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কিছু ঘটলে রাজউক নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে। তার দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বীরা শত্রুতাবশত এ ধরনের অভিযোগ সামনে আনছেন।

 
ইত্তেফাক/এমএস