মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মডেল রাউধা হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২২, ০৯:৩৯

'ভোগ' সাময়িকীর মডেল, মালদ্বীপের বাসিন্দা ও  রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী রাউধা আতিফ হত্যা মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) দুপুরে রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক মহিদুর রহমান শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে মামলাটি তদন্ত করাতে বলা হয়েছে। 

নিহত রাউধা আতিফ মালদ্বীপের নাগরীক। তিনি রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন ও আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ভোগ’-এর মডেল হয়েছিলেন। ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ কলেজের বিদেশি শিক্ষার্থীদের হোস্টেল কক্ষ থেকে রাউধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রাউধার বাবা ডা. আতিফের শুরু থেকে দাবি ছিল, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেননি। তাই তিনি রাউধার সহপাঠী সিরাত পারভীনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। প্রথমে ময়নাতদন্ত শেষে রাউধার মরদেহ রাজশাহীতে দাফন করা হয়। হত্যা মামলার পর মরদেহ তুলে ফের ময়নাতদন্ত করা হয়। দুই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেই বলা হয়, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন।

২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর শাহমখদুম থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার আলী ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিদর্শক আসমাউল হক আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন রাউধার বাবা। আদালত তা গ্রহণ করে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইদুর রহমান ২০১৯ সালের ১৮ মে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে তিনি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে আত্মহত্যার বিষয়টি থাকার কথা উল্লেখ করেন। আর তার নিজের তদন্তের বিষয়ে উল্লেখ করেন যে, মামলার আসামি সিরাত পারভীনের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত মামলাটি নথিজাত করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আসলাম সরকার জানান, এই প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেন রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ। তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবারও মামলাটি তদন্তের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এসজেড