অপহরণ ও মুক্তিপণ আতঙ্কে টেকনাফ

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ২১:৪৬

টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ে অবস্থানকারী বেশ কয়েকটি সশস্ত্র দুর্বৃত্ত গ্রুপের শরণার্থী ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপতত্পরতায় পাহাড়ি জনপদের মানুষজন এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার হোয়াইক্যং রইক্ষ্যং পাহাড়, কম্বনিয়া পাড়া, শিয়াইল্যা পাহাড়, মরিচ্যাঘোনা-হ্নীলা পানখালী পাহাড়, উলুচামরী, রঙ্গিখালী, আলীখালী, লেদা পাহাড়, মোচনী, নয়াপাড়া, জাদিমোরা শালবাগান পাহাড়ে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা ও কতিপয় স্থানীয় দুর্বৃত্ত চক্র লোকালয়ে মিশে থাকা তাদের দোসরদের সহায়তায় অপহরণ করে মুক্তিপণ বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। গত এক মাসে এসব এলাকায় দুই ডজনের অধিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণ চরম উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। লেদা রোহিঙ্গা বস্তির আইয়ুব, জাফর, মোচনী ক্যাম্পের হাসান, নয়াপাড়ার আব্দুর রাজ্জাক, সোলতান ও শাল বাগানের জনৈক জহির এসব ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও আতঙ্কে প্রতিবাদ করতে পারেন না বলে জানান।

এদিকে টেকনাফ সদর ইউপির পাহাড়ি জনপদে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ কার্যক্রমে কুখ্যাত বনদস্যু আব্দুল হাকিমের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ায় এসব অপতত্পরতা কিছুটা কমলেও বাহারছড়া চৌকিদার পাড়া, জাহাজপুরা, কচ্ছপিয়া, শিলখালী পাহাড় এলাকাসহ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত মানুষের বাড়িতে ডাকাত দল হানা দেওয়ায় মানুষের রাত কাটছে আতঙ্কে। এছাড়া চৌকিদার পাড়া থেকে এক বৃদ্ধ এবং কিশোর রাখালকে ধরে নিয়ে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার পর এসব দুর্বৃত্ত দলের অপতত্পরতা আরো বেড়েছে বলে জানান স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার আনোয়ারা বেগম। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে গত ২/৩ মাস ধরে পর্যায়ক্রমে এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী সচ্ছল ও বিত্তবান পরিবারসমূহ লুটপাট এবং হামলা আতঙ্কে রয়েছে। হাজম পাড়া গ্রামের লোকজন নিয়মিতভাবে গ্রামে পাহারা দিচ্ছে বলে জনৈক ছালামত উল্লাহ জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে আলোচনা হচ্ছে। আগামী আইন-শৃংখলা সভায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও পাহাড়ি জনপদ কেন্দ্রিক অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায় সংক্রান্ত ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হবে।