মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নন-ক্যাডার নিয়োগে পরিবর্তন আসছে

ক্যাডার, নন-ক্যাডারদের জন্য একসঙ্গে সুপারিশ

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২২, ০৩:০০

ননক্যাডার নিয়োগে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ভবিষ্যতে ক্যাডার পদের পাশাপাশি ননক্যাডার পদেও একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। আসন্ন ৪৫তম বিসিএস থেকে এটি কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এজন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে সামনের বিসিএসে ক্যাডারের পাশাপাশি ননক্যাডার শূন্য পদের তালিকাও চাওয়া হয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন ননক্যাডারে অপেক্ষায় থাকা পরীক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, ৪০, ৪১ ও ৪৩, ৪৪তম বিসিএসের ননক্যাডার পরীক্ষার্থীদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসবে। তবে পিএসসি আশ্বস্ত করেছে, এতে ননক্যাডার অপেক্ষমাণদের কোনো ক্ষতি হবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন, নিয়োগবিধি অনুসরণ করে ভবিষ্যতে ক্যাডার ও ননক্যাডার পদে একসঙ্গে সুপারিশ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারির সময় পরীক্ষার্থীদের ক্যাডার ও ননক্যাডার পদে আগ্রহী থাকার বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে। ৪৫তম বিসিএস থেকে এটি চালু করার চিন্তা করা হচ্ছে।

ননক্যাডার অপেক্ষমাণদের ক্ষতি হবে কি না—এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ননক্যাডার অপেক্ষমাণদের ক্ষতি হওয়ার সুযোগ নেই। ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির সময় শুধু ননক্যাডার শূন্য পদের তালিকা আমলে নেওয়া হবে। এর আগের শূন্য পদের তালিকা বিবেচ্য হবে না। পূর্বের ননক্যাডার শূন্য পদগুলো অপেক্ষমাণ বিসিএস থেকে পূরণ করা হবে।

গত ২৫ মে পিএসসি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে পত্র দিয়ে ৪৫তম বিসিএস ক্যাডারের পাশাপাশি ননক্যাডারের শূন্য পদের তালিকা চেয়েছিল পিএসসি। পিএসসির পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২৮ জুন সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ক্যাডার ও ননক্যাডার শূন্য পদের তালিকা পাঠানোর জন্য চিঠি দেয়। এই চিঠির পরই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ননক্যাডার পদে অপেক্ষমাণ পরীক্ষার্থীরা। গত ৩০ মার্চ ৪০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ননক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য ৮ হাজার ১৬৬ জন উত্তীর্ণ প্রার্থীকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে। 

অপেক্ষমাণ চাকরিপ্রার্থী বলছেন, পিএসসির এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ৪০তম এবং পরবর্তী ৪১, ৪ ও ৪৪তম বিসিএসের ননক্যাডার প্রার্থীদের ওপর এক চরম বিপর্যয় নেমে আসবে। কারণ, বর্তমানে ৪০তম বিসিএস ননক্যাডারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই বিসিএসের ননক্যাডারের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়নি বা সুপারিশ করা হয়নি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তরসমূহ থেকে ননক্যাডার (৯ম—১২তম গ্রেড পর্যন্ত) শূন্য পদের অধিযাচনপত্র পিএসসিতে পাঠানো হচ্ছে। 

কিন্তু উল্লেখিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পত্রের কারণে বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং তার আওতাধীন দপ্তরগুলো তাদের শূন্য পদগুলো ৪০তম বিসিএস ননক্যাডারের ফরমেটে না পাঠিয়ে বরং ৪৫তম বিসিএস ননক্যাডারের ফরমেটে পাঠাচ্ছে। যেমন—যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ইতিমধ্যে ননক্যাডার শূন্য পদে নিয়োগের জন্য অধিযাচনপত্র ৪৫তম বিসিএসের ফরমেটে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এর ফলে ৪০তম বিসিএস ননক্যাডার কার্যক্রম চলমান অবস্হায় যদি সব দপ্তর ৪৫তম বিসিএস ননক্যাডারের ফরমেটেই অধিযাচনপত্র পিএসসিতে পাঠায়, তাহলে ৪০তমসহ ৪১, ৪৩ ও ৪৪তম বিসিএস থেকেও ননক্যাডার শূন্য পদের জন্য অধিযাচনপত্র বা নিয়োগের জন্য যথেষ্ট পদ পাওয়া সম্ভব হবে না।

আক্ষেপা করে এক পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, ৪০তম ননক্যাডার তালিকায় অপেক্ষমাণ থাকা অনেক মেধাবী চাকরিপ্রার্থী তরুণের জীবনে নেমে আসবে অমানিশার ঘোর অন্ধকার। বিশেষ করে সেই সব মেধাবী তরুণ, যাদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে, তারা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

৮ হাজার ১৬৬ জনের বিশাল এই অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা রেকর্ডসংখ্যক তরুণ মেধাবী চাকরিপ্রার্থী এমনিতেই পদস্বল্পতার কারণে তাদের চাকরি না পাওয়ার আশঙ্কায় হতাশায় ভুগছেন। তার ওপর এই পত্রের কারণে তাদের জটিলতা আরো বাড়ছে—এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’!

এদিকে অপেক্ষমাণ ননক্যাডার পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটি দেখভালের জন্য পিএসসির একজন সদস্যকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগোযোগের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সদস্য নভেম্বর মাসের মধ্যে পর্যাপ্তসংখ্যক ননক্যাডার শূন্য পদের তালিকা পিএসসিতে পাঠানোর জন্য কাজ করছেন।

নভেম্বরেই ৪০তম বিসিএসের ননক্যাডার সুপারিশ :আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই ৪০তম বিসিএস ননক্যাডার নিয়োগের সুপারিশ সম্পন্ন করবে পিএসসি। একই সঙ্গে ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে নভেম্বর মাসেই।

এ বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান বলেন, ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই ৪০তম ননক্যাডার পদের সুপারিশ করা হবে। এর আগে ননক্যাডার পদে যত শূন্য পদ আসবে, সবই ৪০তম বিসিএস ননক্যাডার থেকে সুপারিশ করা হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন