মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

৭৫ বছর পর ভারত থেকে পাকিস্তানে ফিরলেন বৃদ্ধা

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২২, ০৪:৫০

৭৫ বছর পর ভারত থেকে পাকিস্তানে ফিরলেন এক বৃদ্ধা। এই আনন্দে নাচ-গানে মেতে ওঠেন তিনি। এ যেন এক স্বপ্নপূরণের আখ্যান! কাঁটাতারের বেড়াজাল ডিঙিয়ে ৭৫ বছর পর পাকিস্তানে পৈতৃক ভিটায় পা রাখেন রিনা বর্মা। দেশ ভাগের পর এই প্রথম নিজের জন্মভূমিতে ফেরার সুযোগ পেলেন তিনি।

দেশভাগের পর পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির পৈতৃক বাড়িতে ফেরার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন রিনা। কিন্তু সফল হননি। তবে হাল ছাড়েননি এই বৃদ্ধা। পূর্বপুরুষের ভিটায় ফেরার জন্য ভিসায় কঠোর নিয়মকানুনের যদি কিছুটা সহজ করা যায়, এ নিয়ে দুই দেশের সরকারের কাছেই আবেদন জানান তিনি। কিছুদিন আগেই তার ভিসার আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

বুধবার পৈতৃক বাড়িতে পা রেখে আবেগে কেঁদে ফেললেন ৯০ বছর বয়সি রিনা। এই বৃদ্ধা বলেন, এটা হলো আনন্দের অশ্রু। এখানে দাঁড়িয়ে আমি গান গাইব। বাড়ির সামনের রাস্তায় রিনা পা রাখতেই শুরু হয় পুষ্পবৃষ্টি। গোলাপের পাপড়ি গায়ে মেখেই স্থানীয়দের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, ড্রামের তালে বাসিন্দাদের সঙ্গে রীতিমতো পা মিলিয়ে নাচতেও দেখা যায় তাকে।

আদি বাড়িতে ফিরে রিনা বলেন, বাড়িটা এখনো একই রকম আছে। এটা দেখে খুব ভালো লাগছে। বাড়ি ঘুরে দেখতে দেখতে ছেলেবেলার স্মৃতি খুঁজে ফেরেন তিনি। দেশভাগের সময় রীনার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। সে সময় পাকিস্তান থেকে তার পরিবার ভারতের পুনেতে চলে যায়। তারপর থেকে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির বাড়িতে আর যাওয়া হয়নি রিনার। এত দিনে সেই স্বপ্নপূরণ হলো।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এক ভিডিওতে পুনের বাসিন্দা রিনা দেবী জানান, তিনি রাওয়ালপিন্ডির দেবী কলেজ রোডে থাকতেন। তার কথায়, ‘আমি মডার্ন স্কুলে পড়তাম, আমার চার ভাইবোনও ঐ স্কুলেই পড়ত। আমার দাদা আর এক দিদি মডার্ন স্কুলের কাছেই গর্ডেন কলেজে পড়ত।

ইত্তেফাক/এএইচপি