ব্যক্তি ও কোম্পানি করদাতার জন্য সুখবর নেই

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ২২:০০

      আসছে বাজেট

 

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ব্যক্তি, শ্রেণি ও কোম্পানি করদাতাদের জন্য ছাড় দেওয়া নিয়ে বহু আলোচনা হলেও আগামী বাজেটে তাদের জন্য সুখবরের আভাস নেই। ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়সীমা বাড়ছে না। অর্থাত্ করমুক্ত আয়সীমা বিদ্যমান আড়াই লাখ টাকাই থাকছে। সে ক্ষেত্রে গত চার বছর ধরে করমুক্ত আয়ের সীমা একই থাকায় মূল্যস্ফীতির বিবেচনায় ব্যক্তি করদাতার ওপর করের চাপ বাড়ছে। তবে সম্পদের সারচার্জের (করের উপর কর বা মাশুল) ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে কোম্পানির কর্পোরেট করহার কমানোর বিষয়ে সরকার বিভিন্ন সময়ে সদিচ্ছার কথা জানালেও সম্ভাব্য রাজস্ব লোকসানের কথা চিন্তা করে অবশেষে সেখানেও তেমন পরিবর্তন আসছে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে বাজেট ঘোষণা দেবেন।

বর্তমানে ছয় ধাপে কর্পোরেট করহার ২৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত। অন্যদিকে তামাক কোম্পানিগুলোর ওপর আড়াই শতাংশ সারচার্জ হিসাব করলে তা সাড়ে ৪৭ শতাংশে দাঁড়ায়। দীর্ঘদিন থেকেই ব্যবসায়ীরা কর্পোরেট করহার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, প্রতিযোগী অন্যান্য দেশের কর্পোরেট করহার বাংলাদেশের চেয়ে কম। অত্যধিক কর হারের কারণে এখানে বিদেশি বিনিয়োগও (এফডিআই) কাঙ্ক্ষিত হারে আসছে না। যদিও ব্যবসায়ীদের এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

কোম্পানির ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোম্পানির কর ২৫ শতাংশ আর অনিবন্ধিত কোম্পানির ক্ষেত্রে তা ৩৫ শতাংশ। তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ তালিকাভুক্ত না হলে সাড়ে ৪২ শতাংশ। মার্চেন্ট ব্যাংকের ক্ষেত্রে সাড়ে ৩৭ শতাংশ। তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানির ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ। মোবাইল ফোন কোম্পানির মধ্যে গ্রামীণ ফোনের (শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত হওয়ায়) করহার ৪০ শতাংশ আর অন্যদের ৪৫ শতাংশ। এছাড়া কোম্পানির লভ্যাংশ আয়ের ওপর ২০ শতাংশ হারে কর দিতে হয়।

বর্তমানে ব্যক্তি করদাতার আড়াই লাখ টাকা পর ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত  আয়ের উপর ১০ শতাংশ কর দিতে হয়। পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। অবশ্য মহিলা ও বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি করদাতা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে আয়করমুক্ত সীমায় কিছুটা ছাড় রয়েছে। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশিদের করহার ৩০ শতাংশ আর তামাকজাত পণ্য উত্পাদনকারী ব্যবসা হতে আয়ের ওপর সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ ও সমবায় সমিতির অর্জিত আয়ের ওপর করহার ১৫ শতাংশ।

বর্তমানে নিবন্ধিত করদাতা বা টিআইএনধারী ৪০ লাখের ওপরে। এর মধ্যে আয়কর বিবরণী দাখিল করেন প্রায় ২০ লাখ। তবে সরকারের আয়ের বেশিরভাগই আসে কোম্পানি করদাতার কাছ থেকে।