কক্সবাজার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমন হাসান মওলা (২০)-কে ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবদুল খান ওরফে আবদুল্লাহ খানকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। রবিবার (২৪ জুলাই) ভোরে তাকে টেকনাফ থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় নিহতের মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়।
এর আগে শনিবার মধ্যরাতে এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া এতে অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহতের বাবা মো. হাসান বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন, খাইরুল আহমদের ছেলে আবদুল খান প্রকাশ আবদুল্লাহ খাঁন (২৭) ও তার সহোদর আবদুল্লাহ আহাদ ছোটন (২৪), মৃত আব্দুস সালামের ছেলে ছৈয়দ আকবর (৩৩)ও তার সহোদর রমজান আলী (৩০), মুন্না প্রকাশ (২৮), মো. জাফরের ছেলে মো. সানি (২৭), মো. জুয়েল প্রকাশ ফরহাদ (২৫)। এরা সকলেই পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের পেশকার পাড়ার বাসিন্দা।
মামলার এজাহারে মতে, মৃত ভিকটিম ইমন হাসান মাওলা (২০) কক্সবাজার সরকারি কলেজে প্রথমবর্ষের ছাত্র। বিগত কয়েকমাস আগে ইমন হাসান মওলার সঙ্গে প্রধান আসামি আবদুল্লাহ খানের ঝগড়া বিবাদ হয়। তা সামাজিকভাবে নিস্পত্তিও হয়। তা সত্ত্বেও আবদুল্লাহ খান ইমনকে বিভিন্ন উপায়ে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয় দেখিয়ে আসছিলেন।
গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় ইমন মোটরসাইকেল নিয়ে বাসায় ফেরার সময় ছিকু বরফমিলে সামনে পৌঁছলে মামলায় আবদুল্লাহ ও তার ৭/৮ জন সহযোগী ধারালো রাম দা, কিরিচ, ছোরা, চায়নিজ ক্ষুর, লোহার রড, হাতুড়ি, লাঠি দিয়ে ইমনকে মারাত্মকভাবে আঘাত করে।
ওইসময় ইমনের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তার মোটরসাইকেল নিয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতায় সহায়তায় ইমনকে উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ডাক্তারের পরামর্শে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমন মারা যান।
এ বিষয়ে মামলার বাদী ইমনের বাবা হাসান বলেন, আমার ছেলে মৃত্যুর আগে তাকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের নাম ঠিকানা বলে গেছে। সে যাদের নাম ঠিকানা বলেছে, তাদেরকেই মামলার আসামি করা হয়েছে।
এদিকে মামলা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এনিয়ে র্যাব-১৫ এর অফিসে রবিবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আবদুল্লাহ খানের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব ১৫-এর সহকারী পরিচালক নিত্য নন্দ বলেছেন, নিহতের ইমনের বাবার শহরের বাজারঘাটায় একটি পলিথিন, পাপস ও কার্পেটের দোকান রয়েছে। গত বছর সেখানে একটি পাপস কিনতে গেলে আবদুল্লাহ খান ও ইমনের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। এর জেরে ইমন ও তার বন্ধুরা মিলে আবদুল্লাহ ও তার সহযোগিদের মারধর করে। ওই ঘটনায় আবদুল্লাহ পরিবার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। তবে মামলাটি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি হলেও এতে মনঃক্ষুণ্ণ ছিল আবদুল্লাহ খাঁন। প্রতিশোধ নিতে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। সে সুযোগ ২১ জুলাই রাতে আবদুল্লাহ পায়।
তিনি আরো বলেন, আবদুল্লাহকে ইমন হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা পুলিশ গ্রহণ করবে।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, নিহতের বাবার দেওয়া এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে সোমবার আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এছাড়া অন্যান্যদের গ্রেফতারেও অভিযান চলছে।
