শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ভোটার না এলে বোঝা যাবে গণতন্ত্রের অপমৃত্যু হচ্ছে : সিইসি

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২২, ০১:৫৬

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ভোটাররা অনেকটা নিরুত্সাহিত হয়ে পড়েছেন। গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে। যদি ওনারা ভোটকেন্দ্রে না আসেন, তাহলে বোঝা যাবে গণতন্ত্রের অসুস্থতা রয়েছে, গণতন্ত্রের অপমৃত্যু হচ্ছে। তিনি বলেন, অবাধ, উৎসবমুখর নির্বাচনের চেষ্টা চালাব। তবে এজন্য সকলের সমবেতভাবে চেষ্টা চালাতে হবে বলে মনে করেন তিনি। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে চলমান সংলাপের ষষ্ঠ দিনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সালিশ কেন্দ্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হয়ে যথা সময়ে নির্বাচন আয়োজন করার পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ বা বর্জনের বিষয়টি একান্তই সেই রাজনৈতিক দলের নিজস্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। এমন বিষয়সহ কোনো রাজনৈতিক বিতর্কেই নির্বাচন কমিশনের জড়িত হওয়া বা মতামত, বক্তব্য, মন্তব্য প্রদান করা উচিত নয়। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক বিরোধে সালিশি সংস্হা নয়।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছে ইসি। গতকাল চারটি দলের সঙ্গে সংলাপের সময়সূচী নির্ধারণ করেছিল। এর মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সংলাপে অংশ নেয়নি। খেলাফত আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ আলাদা আলাদা সময়ে সংলাপে অংশ নেয়।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমাদের কী কী ক্ষমতা আছে, এগুলো আমরা দেখছি। আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, যে ক্ষমতা আমাদের আছে, তার মধ্যেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেই দায়িত্ব পালন করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করব।

বিদেশি কূটনীতিকদের প্রশ্রয় দেবেন না, ইসিকে জাসদ :দুপুরে দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে সংলাপে অংশ নেয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরীক জাসদ। দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার দলের বক্তব্য তুলে ধরেন। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসির দায়িত্ব সংবিধান ও আইন অনুযায়ী যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা। নির্বাচন নিয়ে সংবিধান ও আইন বহির্ভূত কোনো অসাংবিধানিক ও আইনসম্মত নয় এমন কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা প্রস্তাবকে নির্বাচন কমিশনের প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। কিছু বিদেশি কূটনীতিক ইসির কাজে অযাচিতভাবে নাক গলিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত এ ধরনের কূটনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থি অযাচিত নাক গলানোকে প্রশ্রয় না দেওয়া।

জাসদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিদেশি কূটনীতিকরা ইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে তারা নির্বাচনের বিষয়ে কোনো পরামর্শ ইসিকে দেননি। রাজনৈতিক বিষয়ে ইসিকে সালিশি না করার বিষয়ে জাসদের প্রস্তাবের জবাবে সিইসি বলেন, ‘কাউকে নির্বাচনে আসতে আমরা বাধ্য করতে পারব না। এটা আমাদের দায়িত্বও নয়।’

এর আগে খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে সংলাপের সূচনা বক্তব্যে সিইসি বলেন, সব দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য তারা অনুরোধ করে যাচ্ছেন। অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সংরক্ষিত নারী আসন বাতিল দাবি : সংলাপে অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বিলুপ্ত করা, রাজনৈতিক দলে ৩৩ শতাংশ নারী রাখার বিধান বাতিল করা, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা চালু করাসহ ৪০ দফা প্রস্তাব পেশ করে খেলাফত আন্দোলন। দলটির আমির হজরত মাওলানা হাফেজ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজির নেতৃত্বে ১২ সদস্য ইসির সংলাপে অংশ নেন।

অন্যদিকে এক দিনে জাতীয় নির্বাচন না করে তিন দিনে ভোট করাসহ ৯ দফা প্রস্তাব দেয় ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ। সংলাপে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম আবু নাছের তালুকদারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

ইত্তেফাক/ইআ