বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

উপআনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো : পরীক্ষার আড়াই বছরেও প্রকাশ করেনি ফল

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২২, ০৮:০৯

আড়াই বছর আগের ঘটনা। পত্রিকায় নিয়োগের জন্য সাকু‌র্লার দেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ফলও প্রকাশ করা হয়। উত্তীর্ণদের মৌখিক এবং ব্যবহারিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়। কিন্তু এই ফল এখনো আলোর মুখ দেখেনি। প্রকল্পের মেয়াদ কম দেখিয়ে এই নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না করার পক্ষে মত দিয়েছে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। অথচ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রার্থীরা এখন অপেক্ষা করছেন চাকরিতে যোগ দেওয়ার আশায়। তবে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ বৈঠক ডাকা হয়েছে।

দেশের আট থেকে ১৪ বছর বয়সি ঝরে পড়া ১০ লাখ শিশুকে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এনে সাক্ষরজ্ঞান করার লক্ষে পরিচালিত ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রাম’ উপজেলা প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে এদের নিয়োগ হওয়ার কথা। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিডিইপি-৪) এর আওতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। আর এই কর্মসূচিতে জনবল নিয়োগ, প্রশিক্ষণসহ টেকনিক্যাল সহায়তা করার কথা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর)।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে এই প্রকল্প শুরু হয়। শেষ হবে আগামী বছরের ৩০ জুন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ছিল ধীরগতি, ছিল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদাসীনতা। আবার এখন প্রকল্পের মেয়াদ কম থাকার অজুহাতে নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিলের চিন্তা। ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা বলছেন, কর্মকর্তাদের এই কাজের মাধ্যমে প্রমাণ হয়, তারা চাকরিপ্রার্থী‌দের সঙ্গে তামাশা করছেন। প্রকল্পের সাফল্য বাধাগ্রস্ত করছেন। তাদের প্রশ্ন, কর্মকর্তাদের কাজের উদাসীনতার জন্য প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কেন?

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আইইআর উপজেলা আরবান প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর পদে নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণসহ নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য চুক্তিও করে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্যাডে ২০১৯ সালের ৮ অক্টোবর ৩০০টি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিডি জবসের মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে। যাচাই বাছাই শেষে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য চাকরিপ্রার্থীদের নিকট প্রবেশপত্র ইস্যু করে ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করে। ৯ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে। এতে প্রায় ৩০০ পদের বিপরীতে ১০ হাজার ৬৬৩ জন পরীক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়। পরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো এবং আইইআর একই বছরের ১৩ জানুয়ারি নিজ নিজ দপ্তরের ওয়েব সাইটে মৌখিক পরীক্ষা ও কম্পিউটার টেস্টের জন্য সময়সূচি প্রকাশ করে। উক্ত সময়সূচী অনুযায়ী ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো নিজ দপ্তরের অডিটরিয়াম কক্ষে মৌখিক পরীক্ষা ও কম্পিউটার টেস্ট গ্রহণ করে। কিন্তু ঐ পরীক্ষার ফল আজও প্রকাশ করা হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনও করেছেন প্রার্থীরা। নূর আলম নামে এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, আমরা একাধিকবার উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি আমাদের কথা দিয়েছিলেন দ্রুত এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ফলাফল প্রকাশ না করেই তিনি প্রোগ্রাম চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে চালু করেছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও সংশ্লিষ্ট কাজের কো-অর্ডিনেটর আ. সালাম বলেন, করোনার সময় উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ কাটছাঁটের বিষয়ে নির্দেশনা ছিল। এ কারণে ঐ সময়ে তাদের নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়নি। তবে এখন যদি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো তাদের নিয়োগের জন্য বলে, তাহলে নিয়োগের ফল প্রকাশ করা হবে। তিনি আরো বলেন, এই কর্মসূচি আগামী বছর ৩০ জুন শেষ হবে। এর পর নতুন করে এই কোর্সের ডিজাইন করবে।

আর উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক আতাউর রহমান বলেন, ইচ্ছে ছিল ঐসব পদে নিয়োগের। কিন্তু আমরা সবাই একমত হয়েছি যেহেতু এই প্রকল্প আগামী বছরের ৩০ জুন শেষ হবে। তাই আর নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পাঁচ বছরের প্রকল্পে এক বছর বাকি থাকতে আর নিয়োগ দেওয়াও ঠিক হবে না। ২৫ জুলাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। তিনি জানান, ১০ লাখ শিশুকে শিখনকেন্দ্রে আনার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু করোনার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায়নি। সব মিলে ৭ লাখ শিশুকে শিখনকেন্দ্রে নেওয়া যাবে।

ইত্তেফাক/ইআ