এক যুগেও বাস্তবায়ন হয়নি কমিটির সুপারিশ

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ২২:২১

চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড় ধস ট্র্যাজেডি দিবস আজ

 চট্টগ্রাম অফিস

আজ ১১ জুন। ২০০৭ সালের এই দিনে পাহাড় ধসে ১২৭ জন নারী, পুরুষ ও শিশু নিহত হয়। পরবর্তীকালে ২০০৮, ২০১১ ও ২০১২ সালে ৪২ জন পাহাড় ধসে নিহত হয়েছে। এসব ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনার পরও এখনো পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে হাজারো মানুষ। জেলা প্রশাসন বারবার অভিযান পরিচালনা করেও ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস ঠেকাতে পারছে না। অভিযানে গিয়ে ভূমিদস্যুদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে। কয়টি পাহাড়, কয়টি বসতি ঝুঁকিপূর্ণ, কয়জন অবৈধ দখলদার এবং কারা এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সব কিছুর তালিকা প্রশাসনের কাছে রয়েছে।

পাহাড়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে গঠিত কমিটিতে ছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘পাহাড়ে অবৈধ দখল ও বসতি নিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখানে সরকারি ও বেসরকারি মালিকানাধীন পাহাড় রয়েছে। যার পাহাড় তাকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে হবে। পাহাড় ধসে কোনো লোক মারা গেলে তার দায়িত্বও পাহাড়ের সংশ্লিষ্ট মালিককে নিতে হবে। এটি সরকার গ্যাজেট আকারে প্রকাশ করলে পাহাড় ধস বন্ধ হবে।’

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে ব্যক্তি মালিকানাধীন ১০টি ও সরকারি মালিকানাধীন ৭টি পাহাড়ে ৮৩৫টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে বসবাস করছে। গত রমজান মাসের শুরুতে নগরীর মতিঝর্ণা এলাকায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ করতে গিয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। প্রশাসন পাহাড়ে অবৈধ বসতিগুলোতে বিদ্যুত্ ও পানি সংযোগ  বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিলেও কার্যকর করতে পারেনি। বিভিন্ন সময়ে উচ্ছেদ অভিযানের পর দেখা গেছে দিনের বেলায় সরিয়ে দিলে রাতে পুনরায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ফিরে যাচ্ছে বসবাসকারীরা। অবৈধ বসতিগুলোর পেছনে পাহাড় দখলে রাখা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ইন্ধন রয়েছে।

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ পরিচালনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিককে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৮৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ বসতির মধ্যে রমজানের শুরুতে প্রায় ২০০টি ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকি বসতি উচ্ছেদে আমরা শিগগিরই অভিযান শুরু করবো।’