মোংলায় প্রতিদিন গড়ে ৩-৪ বারের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা। যখন তখন বিদ্যুৎ যাওয়ায় কারখানা ও দোকানের মালামাল নষ্টের পাশাপাশাশি কমে গেছে বেচাকেনাও। আর সন্ধ্যায় লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটছে।
রবিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিদ্যুৎ গিয়ে আসে টানা এক ঘণ্টা পর। এভাবেই দুপুর, দুপুরের পর, বিকেলে, সন্ধ্যায়, রাতে ও ভোরে একাধারে চলছে লোডশেডিং। এক ঘণ্টা, পৌঁনে এক ঘণ্টা, আধা ঘণ্টা করে ৩/৪ বার হচ্ছে লোডশেডিং। এতে ক্ষতি ও ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কলকারখানার মালিক, ঘোষ ডেয়ারি, হোটেল-মোটেল, মুদি ও খাবারসহ বিভিন্ন দোকানিরা। মালামাল নষ্টসহ বেচাকেনা কমে গেছে ব্যবসায়ীদের। লোডশেডিংয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে ভূতুড়ে অবস্থা।
পৌর শহরের শেখ আ. হাই সড়কের ভ্যারাইটিস পণ্যের দোকানদার মো. জালাল হোসেন বলেন, দিনেই তিন চার বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। এতে দোকানের ফ্রিজে থাকা বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হচ্ছে। অন্ধকারে দোকানের তাকের মাল নামানো যায় না, আর কাস্টমারেরাও আসেন না। তারপর গরম তো আছেই। বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।
সুতা, ব্যাগ ও খেলনা পণ্যের দোকানদার মো. বুলবুল বলেন, লোডশেডিং দিলে দোকান অন্ধকার হয়ে যায়। নিজেরাও বসা যায় না, ক্রেতারাও ঢোকেন না। আইপিএস লাগিয়ে আলোর ব্যবস্থা করেছি। বেচাকেনা করতে গিয়ে খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে।
বরিশাল বেকারির মালিক মো. সোহেল বলেন, লোডশেডিং নিয়ে বড় বিপদে আছি, কারখানার কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন। কারণ ঘোষণা ছাড়া যখন তখন লোডশেডিং দেওয়ায় কারখানার ওভেন, ট্রে, সাচে তৈরির বিস্কুট, রুটি ও কেকসহ নানা খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সার ও কীটনাশক দোকানি মো. আবুল হোসেন খান বলেন, লোডশেডিংয়ে ৩/৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে। এমনিতেই প্রচণ্ড তাপমাত্রা, গরমে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছি। দোকানের বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে গেছে। কারণ বিদ্যুৎ না থাকলে অন্ধকার ও গরমে লোকজন আসে না, আবার ৮টায় দোকান বন্ধ করে দিতে হয়। ভীষণ সমস্যায় আছি, যা বলে শেষ করা যাবে না।
সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারির মালিক উত্তম কুমার বলেন, লোডশেডিংয়ে ফ্রিজ ও ফ্যান চালাতে না পারায় গরমে মিষ্টিসহ বিভিন্ন খাবার নষ্ট হচ্ছে। কোনো কাস্টমার লোডশেডিং চলাকালে দোকানে আসে না। বিভিন্ন কাঁচামালও নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া, সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনারও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
শেহলাবুনিয়ার দীনেশ সাহা, নিলিমা বিশ্বাস ও মাদরাসা রোডের তরুণ চন্দ বলেন, সন্ধ্যায় লোডশেডিং হওয়ায় ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে। সামনে স্কুলে পরীক্ষা, এভাবে চলতে থাকলে লেখাপড়ার বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।
কলেজ মোড়ের বাসিন্দা গোলাম হোসেন বলেন, লোডশেডিংয়ে বাড়িতে পড়াশুনার ক্ষতি হচ্ছে। স্কুলেও গরমে ক্লাস করতে পারছে না শিশু-কিশোররা। এতে তারা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
এদিকে পূর্ব থেকে কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই যখন তখন লোডশেডিং না দেওয়া ও রাত ৮টায় দোকান বন্ধের সময় আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় পিডিবি কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন দুই ঘণ্টার লোডশেডিং দেওয়ার ঘোষণা দিলেও মুলত তা মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
পিডিবির মোংলার আবাসিক প্রকৌশলী মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, এখানে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে ৩০ মেগাওয়াট, ঘাঠতি থাকছে ১৫ মেগাওয়াট। তারপরও সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক দিনে-রাতে দুইবার লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ৩/৪ বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লোডশেডিং দুইবার আর বাকি সময় বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে হচ্ছে।

