অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে গেছে খাল-বিল, পাট পচাতে পারছে না কৃষক

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২২, ১২:৩৯

দেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গত এক মাস ধরে অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে গেছে খাল-বিল। পানির অভাবে পাট পচাতে পারছেন না চাষিরা। কেউ কেউ পাট পচাতে বৃষ্টির অপেক্ষা করছেন। আবার অনেকেই পাটের জমিতে আমনের চাষাবাদ করবেন বলে জমি থেকে পাটগাছ কেটে ফেলে রেখেছেন। কিছু কৃষক পাটকাঠির আশা ছেড়ে দিয়ে পাটগাছ থেকে আঁশ তুলে নিয়ে স্বল্প পানিতে ‘রিবন রোটিং’ পদ্ধতিতে পাট পচাচ্ছেন। এদিকে গত দুই-তিনদিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষ কিছুটা তাপদাহ থেকে রক্ষা পেলেও পাট ও আমন চাষিদের কোনো সুফল মেলেনি।

উপজেলার কুরুষাফেরুষা এলাকার কৃষক কাসেম আলী জানান, এ বছর ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। গত বছর পাট চাষ করেছিলেন ৪ বিঘা জমিতে। অনাবৃষ্টির কারণে খাল-বিলে কোনো পানি নেই। তাই পাট পচাতে পারছেন না। পাটগাছ কেটে জমিতেই ফেলে রেখেছেন। তাই বাড়ি থেকে ১ কিলোমিটার দূরে এক ডোবার হাটু পানিতে পাট পচাচ্ছেন। 

একই এলাকার পাট চাষি নিখিল চন্দ্র রায় ও তৈয়ব আলী বলেন, পানির অভাবে পাট পচাতে না পেরে জটিল সমস্যায় পড়েছেন। অতিরিক্ত পরিবহন খরচ করে অনেকে ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে নদীতে পাট পচাচ্ছেন। আশেপাশের খাল-বিলে কোনো পানি নেই। পুকুরগুলোতে পানি আছে কিন্তু মাছ চাষ করার জন্য সেখানে পাট পচানো সম্ভব হচ্ছে না। তারা প্রত্যেকে এ বছর ৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। 

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিনুফা ইয়াছমিন বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হয়েছে ৭৫৯ হেক্টর। পাট বপনের সময় অতিবৃষ্টির কারণে এ বছর ৫৪০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করেছেন কৃষক। উপজেলাজুড়ে পানির সংকট দেখা দেওয়ায় এ পর্যন্ত ১০ হেক্টর জমির পাট কেটে ফেলা হয়েছে। তবে আশাকরি কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত হলে কৃষকরা পাট কেটে সুন্দরভাবে পচানোর কাজ করতে পারবেন। 

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে ‘রিবন রোটিং’ পদ্ধতিতে পাট পচানোর জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাট চাষ এখন পরিত্যক্ত জমি ও চর এলাকাগুলোতে হচ্ছে। উন্নত জাতের পাট চাষ করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। এজন্য আমরা বিভিন্ন স্থানে কৃষকের মাধ্যমে প্রদর্শনী পট তৈরি করেছি।

ইত্তেফাক/মাহি