অজ্ঞাত ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম বুলবুল আহমেদ। তিনি লোকপ্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। গতকাল সোমবার রাতে বুলবুলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আবু হেনা পহিল। পরে বুলবুল হত্যার বিচার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিক্ষোভ করেন তার সহপাঠীরা। রাত ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল।
এদিকে একই দিন সকালে গাজীপুরের গাছা পলাশোনা গুদারাঘাটের উত্তর পাশে তুরাগ নদ থেকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে টঙ্গী নৌ ফাঁড়ি পুলিশ। নিহত ছাত্রের নাম মোয়াজের বিন আলম (২৩)।
সহকারী প্রক্টরের বরাত দিয়ে শাবি প্রতিনিধি জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারের পাশে গাজীকালু টিলা লাগোয়া ‘নিউজিল্যান্ড’ এলাকায় বুলবুল ছুরিকাহত হন। বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাতে বুলবুলের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় তাকে কয়েক জন শিক্ষার্থী উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যালে নিয়ে যায়। পরে তাকে ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত বুলবুলের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের ২১৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন। বুলবুলের সহপাঠীদের ধারণা, বিকালের দিকে টিলায় হাঁটতে গিয়েছিল বুলবুল। তখন ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে তিনি ছুরিকাহত হন।
বুলবুলের মৃত্যুর খবর পেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে ছুটে যান। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমাদের দাবি, নিরাপদ শাবিপ্রবি’ বলে স্লোগান দেন। ঘণ্টাখানেক প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা পুনরায় গোলচত্বরে এসে স্লোগান দেওয়া শুরু করেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গণিত বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে শিক্ষার্থী ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন, এটা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে বুলবুল আহমেদের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। পরে রাত ১০টার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উপাচার্য গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের সহযোগিতা চান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থানায় অভিযোগ করেছে। দ্রুত দোষী ব্যক্তিদের গ্রেফতারে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, কে বা কারা বুলবুলকে ছুরিকাঘাত করেছে, তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির নিহত ছাত্র মোয়াজের বিন আলম ঢাকার ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার রেজাউল আলম হিরোর ছেলে। এ ঘটনায় হিরো বাদী হয়ে গাছা থানায় মামলা করেছেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার আলম নিজ বাড়ি থেকে ইউনিভার্সিটির ক্লাসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরবর্তী সময়ে এ ঘটনায় তার পরিবার ঢাকার ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়ারি করেন।
গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, আলম নিখোঁজের পর গত রবিবার গাজীপুরের বাসন থানার ইসলামপুর এলাকার নদীপাড় থেকে তার গায়ের কাপড় উদ্ধার করা হয়। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
