শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

কর্মকর্তাকে বিশেষ অতিথি করায় স্বাধীনতা দিবসের সভা বয়কট বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ২০:৫২

মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের আলোচনা সভায় ‘ডেকোরাম’ না মেনে প্রধান প্রকৌশলীকে ‘বিশেষ অতিথি’ করায় সভা বয়কট করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে এ আলোচনার সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য। পরবর্তীতে শহীদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। সেসব আয়োজনে জাতীয়তাবাদী ফোরামের শিক্ষকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

জানা যায়, স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাচার্য মো সাজেদুল করিম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন আহমদ কবির চৌধুরী, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মো. জয়নাল ইসলাম চৌধুরী।

সরেজমিনে সভায় গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধান প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য প্রদান করেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এই সভা ‘বয়কট’ করেছেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক নেতারা। সভা শুরুর আগেই তাদের কয়েকজন মিনি অডিটোরিয়াম থেকে বের হয়ে যান।  

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. শাহ আতিকুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪ বছরের ইতিহাসে এরকম ডেকোরাম ভঙ্গ করে কোন অনুষ্ঠান আয়োজন হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। এ অনুষ্ঠানে  সাধারণত ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার, ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা বা প্রক্টরকে অতিথি তালিকায় রাখা হয়। অনুষ্ঠানে একজন অফিসারকে বিশেষ অতিথি রাখায় গতকালই আমরা জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ভিসি, প্রো ভিসিকে বিষয়টি জানিয়েছি। শিক্ষক সমাজের ডিগনিটি নষ্ট করে একজন অফিসারকে বিশেষ অতিথি রাখা হলে আমরা অনুষ্ঠানে যাব না।

তিনি আরও বলেন, ওনারা আমাদের আশ্বস্ত করায় আমরা আজকে সভায় অংশগ্রহণ করতে যাই। গিয়ে এ পরিস্থিতি দেখায় আমরা জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম সভা বয়কট করি।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, আগে এরকম দেখি নাই। এবার এটা ব্যতিক্রম মনে হয়েছে। ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার, সিনিয়র শিক্ষকরাই থাকতেন। সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয় হায়ারার্কি মেইনটেন করলেই সুন্দর হয়।

জানতে চাইলে সভার সভাপতি ও আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রশিদ বলেন, এগুলো আমার কাজ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যাদের নাম দিয়েছে তাদেরকে আমরা যুক্ত করেছি।

এ বিষয়ে জানতে প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল ইসলাম চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করলেও সাড়া দেননি। 

জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি উপাচার্য গঠন করেছে। কমিটি আলোচক হিসেবে কাকে রাখবে, কাকে রাখবে না সেটা  সেই কমিটির বিষয়। আমি তার কিছুই জানি না। তার পরেও গতকাল (বুধবার) আমাকে একজন শিক্ষক বিষয়টি অবগত করেন। তখন আমি সেই শিক্ষককে বলি তোমার পরামর্শটা কমিটির সদস্য সচিবকে বলো। আমিও তোমার বার্তাটা  তাকে বলব যেন আমলে নেয়। এর বাইরে আমি আর কিছু জানি না। 

ইত্তেফাক/এপি