১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় অস্ত্র ও গাঁজাসহ আটক দেখিয়ে মামলার আসামি করার অভিযোগ তুলে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মকবুল হোসেনসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন আব্দুল হান্নান নামের এক ব্যক্তি।
রবিবার বিকালে মেহেরপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (গাংনী) আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন তিনি। বিচারক শাহীন রেজা মামলাটি আমলে নিয়ে কুষ্টিয়া পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এর বাদি আব্দুল হান্নান গাংনী উপজেলার করমদি গ্রামের আপেল উদ্দিনের ছেলেন। আসামি করা হয়েছে গাংনী থানাধীন বামুন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মকবুল হোসেন, এএসআই এনামুল, মুস্তাক আহমেদ (আরও ওয়ান), কনস্টেবল পান্না শিকদার ও গোপাল চন্দ , উপজেলার করমদি গ্রামের মাগরিব, শরিফুল, তার স্ত্রী স্বপ্না, সাহারুল, টিপু, আবেদ এবং আনার মেকারকে।
মামলার এজাহারে বাদি অভিযোগ করেন, তার ভাই মুন্নাত আলীর একটি গরু চুরি করেন আসামি মাগরেব। বিষয়টি জানতে পেরে তারা গরুটি ফেরত চান। তবে গরু ফেরত দিতে মাগরেব ৩৫ হাজার টাকা দাবি করেন। তারা দাবিকৃত টাকা দিলেও মাগরেব গরু ফেরত দেননি। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলাও আছে। উক্ত মামলার কারণে মাগরেব ক্ষুব্ধ হয়ে ৭ নম্বর থেকে ১২ নম্বর আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এসআই মকবুল হোসেনসহ আরো কয়েকজন পুলিশকে মোটা অংকের ঘুষ দেন তাকে ফাঁসানোর জন্য।
এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৯ নভেম্বর এসআই মকবুল হোসেনসহ প্রথম চার আসামি তাকে গ্রামের হাফিজুরের চায়ের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। এসময় তার কাছে থাকা জমি বন্ধকের ৫০ হাজার টাকা এবং দোকানের মালামাল কেনার ৩৩ হাজার টাকাসহ মোট ৮৩ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। কিছু দূর যাওয়ার পর আমার চোখ বেঁধে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে তারা আমাকে থানায় নিয়ে যায়। আরও ওয়ান মোস্তাক আহমেদ আমার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। এক পর্যায়ে ৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হলে টাকা নেওয়ার পর ওই দিনই তার কাছ থেকে ৪শ গ্রাম গাঁজা ও একটি ওয়ান শুট্যার গান অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে আদালতে চালান করে দেয়। পরে তিনি জামিন পেয়ে শারীরিক ভাবে সুস্থ হয়ে সোমবার আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
