বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিমানের ঢাকা-টরন্টো বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২২, ১৪:৫৫

বাংলাদেশ বিমানের আলোচিত ঢাকা-টরন্টো বাণিজ্যিক ফ্লাইট আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সময় বুধবার (২৭ জুলাই) ভোর রাত ৩টা ৩০ মিনিটে বিজি-৩০৫ ফ্লাইট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টরন্টোর উদ্দেশে যাত্রা করে। স্থানীয় সময় বুধবার বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটি টরন্টো পৌঁছাবে। মাঝপথে ফ্লাইটটি রিফুয়েলিংয়ের জন্য স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবতরণ করে।

টরন্টোতে বিমানকে স্বাগত জানানোর জন্য হাই কমিশনারের সৌজন্যে টরন্টোর এক আভিজাত্য হোটেলে ডিনার পার্টির আয়োজন করা হয়। সেখানে ধারাবাহিক ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ বিমান এই পথে কতটা লাভবান হবে, এই প্রশ্নের জবাবে হাই কমিশনার ড. খলিলুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘সরকারের সব প্রকল্প ভালের জন্য নয়। কোনো কোনো মিশন-ভিশন থাকে সেবামূলক।’

তিনি আরও বলেছিলেন, তবে চালু হয়ে লাভের অন্যান্য খাতগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। যেমন এই রোডের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক-লন্ডন যুক্ত করা যেতে পারে। তবে সব চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, মালামাল আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে তা গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশি পণ্য নৌপথে অথবা বিমানের নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে ট্রানজিট হয়ে আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এই পথ চালু হলে ২০ ঘণ্টার মধ্যে তাজা সবজি জাতীয় পণ্য দ্রুত চলে আসবে। যাত্রী বহনের পাশাপাশি পণ্য সামগ্রীর বিষয়টি যুক্ত হলে বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।

টরন্টোস্থ ড্যানফোর্থে অবস্থিত এয়ারলাইন্স এজেন্সি কানাডা এক্সপ্রেসের কর্ণধার জনাব মজিবুর রহমান দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা থেকে মনে করেন, টরন্টো-ঢাকা ফ্লাইট কোনো ভাবেই লাভজনক হবে না। যেখানে জনবহুল প্রবাসীর শহর নিউ ইয়র্ক থেকে ঢাকা সার্ভিসসহ অন্যান্য রোডে বিমান লাভের মুখ দেখেনি। এখন তো আরও ভয়াবহ অবস্থা।

টরন্টোর বেস্ট ট্রাভেলসের কর্ণধার সুমন জাফর ইত্তেফাককে বলেন, ‘হ-য-ব-র-ল অবস্থায় বিমান অপেশাধারী এবং অপরিকল্পিত ভাবে বাণিজ্যিক ফ্লাইট আবেগে যাত্রা শুরু করলো। ফলে অফিস ছাড়া, যাত্রীসেবার অব্যবস্থা, টিকিট কাটার জটিলতা, টিকিট বুকিং বা বাতিলের বিষয়, হোটেল সার্ভিস থেকে শুরু করে প্রচুর সমস্যা ও সংকটে পড়বে। যার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।’

টরন্টোতে বিমানকে স্বাগত জানানোর জন্য হাই কমিশনারের সৌজন্যে ডিনার।

এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- ঢাকা-টরন্টো রুটে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। ঢাকা-টরন্টো-ঢাকা রুটে ইকোনমি ক্লাসে রিটার্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সপ্তাহে প্রতি বুধবার বিজি ৩০৫ বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৩টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টরন্টোর উদ্দেশে যাত্রা করবে। যাত্রাপথে ফ্লাইটটি শুধু রিফুয়েলিংয়ের জন্য স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবতরণ করবে। তবে সেখান থেকে কোনো যাত্রী উঠা-নামা করবে না। এক ঘণ্টা বিরতির পর ইস্তাম্বুল থেকে রওনা হয়ে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটি টরন্টো পৌঁছাবে।

প্রতি বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিজি ৩০৬ টরন্টো থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। যাত্রাবিরতি ছাড়াই ফ্লাইটটি একটানা ১৬ ঘণ্টা উড়ে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। আর প্রতি রবিবার টরন্টো থেকে স্থানীয় সময় রাত ৯টায় উড্ডয়ন করে সরাসরি ঢাকায় পৌঁছাবে সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টায়।

উল্লেখ্য, ২৯৮ আসনের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার দিয়ে একটি ফ্লাইট গত ২৬ মার্চ মাত্র ৭০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে টরন্টোগামী বিমান বাংলাদেশের প্রথম সরাসরি ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব। বাণিজ্যিকভাবে পরীক্ষামূলক এ ফ্লাইটে সরকারের ব্যয় হয় সোয়া চার কোটি টাকা।

টরন্টোতে বাংলাদেশ বিমান ছিল না কিন্তু ছিল একটি চক্রের বিলাস বহুল অফিস এবং ‘রিজাভেশন এন্ড টিকেটিং’ পদের নিয়োজিত এক ব্যক্তি। শহরের ডাউন টাউনের ব্যয় বহুল এবং আভিজাত্য এলাকা ২০৮ ব্লোর স্ট্রিটের আট তলায় তিন কক্ষ বিশিষ্ট বিশাল অফিসের পেছনে ১৯৯৯ সালে থেকে টানা তেরো বছর তার বেতন-ভাতা, অফিস ভাড়া, আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে মাসে মাসে অযথা সরকারকে গচ্চা দিতে হয়েছে হাজার হাজার ডলার। পরে দৈনিক ইত্তেফাকে এনিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সেই অফিস বন্ধ হয়ে যায়।

ইত্তেফাক/এমআর