নেপালে ভুয়া কল সেন্টার, চীনা নাগরিকসহ আটক ৩৫

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২২, ১৭:৫৩

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর তিনকুনে সোমবার (২৫ জুলাই) একটি কল সেন্টারে অবৈধ কার্যক্রম-অর্থনৈতিক লেনদেনের অভিযোগে ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন চীনা নাগরিকও আছে।  মঙ্গলবার (২৬ জুলাই)  এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালে এই তথ্য জানানো হয়। 

স্কাই ওয়ার্ল্ড কল সেন্টারে এসব ব্যক্তিকে নেপালের পুলিশ গ্রেফতার করে। সেসময় কল সেন্টার থেকে ল্যাপটপ, কম্পিউটার এবং অন্যান্য নথি জব্দ করা হয়। স্থানীয় মিডিয়া এই তথ্য জানিয়েছে। 

কাঠামান্ডু জেলা পুলিশ অফিসের মুখপাত্র দিনেশরাজ মৈনালি বলেন, অবৈধ কার্যকলাপ ও লেনদেনের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়। নেপালের পুলিশের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটিতে চীনা অর্থ বিনিয়োগ করা হয়।  

মৈনালি আরও জানান, দুই বছর ধরে কার্যক্রম চালানো প্রতিষ্ঠানটিতে অন্তত ২ হাজার  তরুণ কাজ করতেন। 

তদন্তে জানা যায়,  বৈদ্য অরগ্যানাইজেশন নামে প্রতিষ্ঠানটি ভাড়াকৃত জায়গায় তাদের কল সেন্টারের কার্যক্রম চালায়। প্রতিষ্ঠানটি চীনা অ্যাপের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকদের চড়া সুদে ঋণ দিয়ে আসছিল। 

পুলিশ জানায়,  শিল্প ও বানিজ্য ফেডারেশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট সুরাজ বৈদ্যের বাড়িটিতে এই কল সেন্টারের কার্যক্রম চলছিল।

কাঠমান্ডু জেলা পুলিশ আরও জানায়, এর আগে সেখানে বিভিন্ন কল সেন্টার থেকে বেশ কয়েকজন চীনা নাগরিক গ্রেফতার হয়। এরপরই চীনা বিনিয়োগকারীরা ভারতীয়দের লক্ষ্য করে তাদের প্রতিষ্ঠান চালানোর পরিকল্পনা করে। 

কলসেন্টারে কর্মরত কর্মীদের তথ্য অনুসারে, হিন্দি ভাষায় পারদর্শীদের সেখানে কাজ দেওয়া হতো। কল সেন্টারটি ভারতীয় নাগরিকদের ঋণ দিয়ে থাকে এবং অন্যান্য কর্মচারীরা সেই ঋণ তুলতে কাজ করে থাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয় নাগরিকদের মোবাইল ফোনে গণহারে ঋন সংক্রান্ত বার্তা পাঠায় ও ঋণ নিতে আহ্বান জানায়। 

ঋণপ্রাপ্তদের বিস্তারিত সবকিছু চীনা কিছু অ্যাপ এর মাধ্যমে রেকর্ড হয়। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কল সেন্টার থেকে ব্যাক্তিগত তথ্য ও ছবি প্রকাশের হুমকি দেয়া হয়, জানায় স্থানীয় গণমাধ্যম। ঋণ দেয়ায় ব্যবহৃত চীনা অ্যাপ গুলোর সার্ভার গুলো হংকং এর ম্যাকাও ও চীনে অবস্থিত।

একজন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, পুলিশ এসব কল সেন্টারগুলোর সাথে জড়িতদের গ্রেফতার এখন শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার। কিন্তু সার্ভারগুলো অফলাইনে থাকা ও চীনে অবস্থিত হওয়ার কারণে অবৈধ ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পর্কে তদন্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। 

সম্প্রতি পুলিশি তদন্তে জানা যায়, এইসব কল সেন্টারের মাধ্যমে বহু অবৈধ লেনদেন ঘটে। এই তদন্তে আরও জানা যায়, বেশকিছু অপরাধী দল বর্তমানে নেপালে সচল রয়েছে।

রবিবার একইরকম এক ঘটনায় পুলিশ রুপনদেহির জাঙ্কিনগরে ভিউ স্কাই বিজনেস সল্যুশন প্রাইভেট লিমিটেডের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ৯জনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছে।

প্রক্সি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাপক হারে ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা ঘটছে। তদন্তকারীরা জানায়, এসব প্রতারণামূলক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বেশিরভাগই চীনা নাগরিক অথবা প্রতিষ্ঠানগুলো জড়িত। 


  

ইত্তেফাক/এসআর