বিভিন্ন ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সৃষ্ট মতপার্থক্য ও সমন্বয়হীনতা কাটাতে জরুরি বৈঠক করেছেন ফ্রন্ট নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও ফ্রন্ট শরিক জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাড়িতে গতকাল সোমবার এ বৈঠক হয়। বৈঠকের শুরুতেই বারবার ঘোষিত অনড় অবস্থান থেকে সরে বিএনপি ও গণফোরামের নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে সংসদে যোগদান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ব্যাপারে বৈঠকে যোগ দেওয়া বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফ্রন্ট নেতাদের জানিয়েছেন, কোন প্রেক্ষাপটে এবং রাজনৈতিক কোন কৌশলের অংশ হিসেবে বিএনপি সংসদে গেছে— সে বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে সহসাই যেই বৈঠকটি হবে সেখানে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হবে।
ড. কামাল হোসেন গতকালের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার থাকার কথাও ছিল না। এছাড়া ফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গতকালের বৈঠকে যাননি। বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও জেএসডি সভাপতি আ স ম রব সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে তুলতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আগামী সভা করব। এ আন্দোলনের রূপ হবে বৃহত্তর ঐক্য। ঐক্যফ্রন্টকে আরো বিস্তৃত ও ব্যাপক করতে হবে। সরকারবিরোধী যত রাজনৈতিক দল আছে, সেসব দলকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারের হাত থেকে গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলন অব্যাহত রাখব।
বৈঠক শেষে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির আরেক সদস্য ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, সংসদে যোগদানের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে গতকালের বৈঠকে কিছু জানানো হয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে— এ বিষয়ে তারা কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে পরবর্তী বৈঠকে ব্যাখ্যা দেবে। গণফোরামের পক্ষ থেকে আমরাও বলেছি যে, আগামীতে যেই সভা হবে সেখানেই এ বিষয়ে ড. কামাল সবাইকে অবহিত করবেন। অসঙ্গতি দূর করা না হলে ঐক্যফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে যাবে বলে কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ যে আলটিমেটাম দিয়েছে, সেই বিষয়ে সুব্রত চৌধুরী জানান, বিষয়টি নিয়ে গতকালের বৈঠকে আলাপ হয়েছে, তবে চূড়ান্ত কিছু হয়নি। এ নিয়ে আরো আলোচনা হবে। তাছাড়া এর আগে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গেও কাদের সিদ্দিকীর কথা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে সুব্রত চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে কাদের সিদ্দিকী নমনীয়, কারণ দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবাই বর্তমান ঐক্য অটুট রাখার পাশাপাশি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার বিষয়ে একমত। গতকালের বৈঠকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক ও যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী যোগ দেন।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে রব বলেন, উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদের হরিলুট চলছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জাতির কাছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠাসহ রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আমরা। এটা আদায় না করা পর্যন্ত আন্দোলন ও ঐক্য অব্যাহত থাকবে। খালেদা জিয়া কারাগারে। তার হাসপাতালে বোমা পাওয়া গেছে। তার জীবন হুমকির মুখে। হাজার হাজার কর্মী কারাগারে। তাদের কারাগারে রেখে আমরা ঘুমাতে পারি না। খালেদা জিয়াসহ সরকারবিরোধী সব নেতাকর্মীকে কারামুক্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. জাহিদুর রহমান ও দলটির নেতা মমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
