বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নর্থ সাউথের শিক্ষার্থী হত্যার নেপথ্যে প্রেম নিয়ে বিরোধ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২২, ০১:২০

প্রেমঘটিত কারণে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমন রহমানের সঙ্গে রাশেদুল ইসলাম রাসুর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এ কারণে রাসু ও অন্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ইমনকে খুন করে এবং পরে লাশ তুরাগ নদীতে ফেলে দেয় বলে র‌্যাবের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। 

বুধবার (২৭ জুলাই) সকালে কাওরান বাজার র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন এ কথা জানান।

তিনি বলেন, বুধবার ভোরে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানার আবাদপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে আত্মগোপনে থাকা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাসু, তার সহযোগী বিপুল চন্দ্র বর্মনকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার কালামপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রাসুর নিজ বাড়ির শয়নকক্ষের বিছানার নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা এবং বিপুল চন্দ্র বর্মণের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ইমন একই স্কুলে মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশুনা করতেন। গত কয়েক বছর ধরে তারা পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত। এছাড়াও আসামিরা দুই-তিন বছর আগ থেকে একই সঙ্গে মাদক ক্রয় এবং সেবনের সঙ্গে জড়িত। তারা বন্ধু হলেও ইমনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল।

আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, সম্প্রতি প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে ইমনের সঙ্গে রাসুর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেলে রাসু তার চার জন সহযোগীসহ ইমনকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাসু মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ৭ জুলাই রাতে ইমনকে তার বাড়ির পশ্চিম পাশে বট গাছতলায় আসতে বলে। সেখানে রাসু, বিপুলসহ অন্য হত্যাকারীরা আগে থেকেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকে। ইমন গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার রসুলপুর বটগাছতলায় পৌঁছামাত্রই রাসু ইমনকে তার প্রেমিকাকে গালিগালাজ করার কারণ জিজ্ঞাসা করে। বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে রাসুর সঙ্গে থাকা দা দিয়ে ইমনকে কোপ দেয় এবং তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে ইমন নিস্তেজ হয়ে গেলে হত্যাকারীরা তার লাশ যাতে কেউ খুঁজে না পায় সেজন্য তুরাগ নদীতে ভাসিয়ে দেয়।

ইত্তেফাক/এমএএম