বিদ্যুত্-জ্বালানি খাত পাচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ২৩:০১

আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০) জাতীয় বাজেটে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মোট বরাদ্দ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের চেয়ে আগামী বছর বিদ্যুতে বরাদ্দ বাড়বে এবং জ্বালানিতে কমবে। দুই বিভাগের প্রকল্পের পরিমাণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এ বরাদ্দ বাড়ানো-কমানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপিতে বিদ্যুত্ ও জ্বালানির বিভাগের জন্য ২৯ হাজার ৬৬৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) এর পরিমাণ হলো ২৯ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা। আগামী বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে এ বাজেট পেশ করবেন। আগামী বাজেটের এডিপিতে বিদ্যুত্ খাতের জন্য ২ হাজার ১৮০ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ বেশি রাখা হচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যুতের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আরএডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ২৩ হাজার ৮৩৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। জ্বালানিতে আগামী বছরের জন্য এডিপি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৩ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যার পরিমাণ ৫ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা। অর্থাত্ জ্বালানিতে উন্নয়ন বরাদ্দ কমছে।

আগামী বাজেটের অনুমোদিত প্রকল্প বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উত্পাদনের চেয়ে বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এর আগের বাজেটগুলোতে বিদ্যুত্ উত্পাদনে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুত্ বিভাগের ১৭ প্রকল্পে আরএডিপিতে মোট বরাদ্দ ২৩ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। ১৭টি প্রকল্প চলতি অর্থবছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিনটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে না বলে জানা গেছে। এগুলো হলো— ৪০০ মেগাওয়াটের বিবিয়ানা-৩ বিদ্যুত্ প্রকল্প এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চট্টগ্রাম-সিলেট বিভাগের সমপ্রসারণ কার্যক্রম-২ ও ঢাকা বিভাগের সমপ্রসারণ কার্যক্রম-২। এর মধ্যে বিবিয়ানা-৩ প্রকল্পটি কয়েক বছর ধরে ঝুলে আছে। এই তিন প্রকল্পের জন্য আগামী অর্থবছরে ২১০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ চাওয়া হলেও সে অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

চলতি বছর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যুত্ বিভাগ জ্বালানির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। গত এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুত্ বিভাগ ৬৯ দশমিক ২৪ শতাংশ এডিপি বরাদ্দ ব্যয় করেছে। জ্বালানি বিভাগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৫০ দশমিক ৫২ শতাংশ। নির্বাচনী বছর হওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হার কম ছিল বলে দাবি করেন এক মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জ্বালানি বিভাগের এডিপিতে জিওবি এবং বৈদেশিক ঋণের আটটি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) একটি করে এবং পেট্রোবাংলার ছয়টি প্রকল্পের বিপরীতে ১ হাজার ৬৩৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি সহায়তা ৮৭৪ কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণ ৭৬২ কোটি টাকা। এ ছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে এডিপিতে এ বিভাগের আওতায় ছয়টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্পে ২৭৯ দশমিক ১৩ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আগামী অর্থবছরে জিওবি ও বিদেশি ঋণ খাতে মোট ১ হাজার ৯১৫ দশমিক ৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। নতুন ছয় প্রকল্পের মধ্যে পেট্রোবাংলার তিনটি, বিপিসির দুটি এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তরের একটি প্রকল্প রয়েছে।