ভূরুঙ্গামারীতে শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষ

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ২৩:০১

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশ কর্তৃক ছাত্রলীগ ও মোটর শ্রমিক লীগের ২ নেতা লাঞ্ছিতের ঘটনায় শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষে পুলিশের লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপে ১০ জনের অধিক পথচারী ও শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছে। আর এ ঘটনায় দাঙ্গা পুলিশের ৫ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শ্রমিকরা জানান, রবিবার সন্ধ্যায় ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশ জয়মনির হাট হতে আসামি নিয়ে থানায় আসার পথে বাসস্ট্যান্ডের ঝর্ণা মার্কেটের সামনে জ্যামে পড়ে। এ সময় পুলিশ সাইড চাইলে জ্যামে আটকা পড়ারা অপারগতা প্রকাশ করলে পুলিশের এএসআই আমিনুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে ভ্যানের সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সদর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সহসভাপতি আবিদ আহম্মেদকে কিল ঘুষি মারে। এ সময়  উপস্থিত জনতা এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং পুলিশকে ঘিরে ফেলে। এ সময় মোটর শ্রমিক লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান এগিয়ে এলে তাকেও লাঞ্ছিত করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে উত্তেজিত জনতা ও শ্রমিকের সংঘর্ষ বাধে। এদিকে পুলিশ সদস্যের আক্রান্ত হওয়ার খবর থানায় পৌঁছলে ১৫/১৬ জনের পুলিশ টিম থানাগেট থেকে এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ ও ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়তে ছুড়তে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। শত শত পথচারী, বাসের যাত্রীসহ শ্রমিক লাঠিচার্জের শিকার হয়। এদিকে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটের আঘাতে ১০ জনের অধিক আহত হয়েছে। গুরুতর আহতরা হলেন- আব্দুল কাদের, জাবেদ আলী, হানিফ, বাবু, সুকান্ত, মানিক, মুকুল, আব্দুর রহমান, সবুজ ও রফিকুল ইসলাম। ওসমান গণি নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে ওসি জানিয়েছেন। এদের মধ্যে ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন ৯ জন রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা এ এস এম সায়েম। এদিকে ঘটনার পরপরই  শ্রমিকরা ঢাকাসহ স্থানীয় রুটের সব যান চলাচল বন্ধ করে দিলে রাত ৮টার দিকে ওসি ইমতিয়াজ কবিরের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের মধ্যস্থায় অবরোধ তুলে নেয় শ্রমিকরা। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১২ জন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করার আশ্বাস দিলে সমঝোতা হয় বলে জানিয়েছে মোটর শ্রমিক নেতা মিজানুর রহমান মিজান। এ ব্যাপারে ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির জানান, ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িত দাঙ্গা পুলিশের ৫ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে অপরাধ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।