খেরসন পুনর্দখলে মরিয়া লড়াই ইউক্রেন বাহিনীর 

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২২, ২০:১২

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, রুশ-অধিকৃত খেরসন পুনর্দখলের জন্য ইউক্রেনের প্রয়াসে গতিসঞ্চার হয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী আমেরিকার সরবরাহ করা দূরপাল্লার হাইমার্স রকেট ছোঁড়ার পর খেরসন শহরে ঢোকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তনভস্কি নামের একটি সেতু ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এর ফলে শহরটি অন্যান্য রুশ অধিকৃত এলাকা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সেতুটি বন্ধ হয়ে গেলে খেরসন দখল করে থাকা রুশ সৈন্যরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে এবং রাশিয়ার জন্য এটি হবে এক বিপর্যয়।

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন শহর রুশ দখলে থাকা এলাকার অন্যান্য শহর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দনিপ্রো নদীর কাছে মোতায়েন থাকা হাজার হাজার রুশ সৈন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে। 

খেরসনের দখল নিয়ে লড়াই

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরো বলছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী সম্ভবত ইনহুলেটস নদীর দক্ষিণ দিকে একটি শক্ত অবস্থান কায়েম করেছে এবং দনিপ্রো নদীর ওপরকার কমপক্ষে তিনটি সেতুর ক্ষতিসাধনের জন্য নতুন দূরপাল্লার কামান ব্যবহার করছে। 

মস্কো-সমর্থক কর্মকর্তারা অবশ্য ইউক্রেনীয় বাহিনী ইনহুলেটস অতিক্রম করেছে এমন খবর অস্বীকার করেছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, খেরসন শহরটিতে তাদের দখল টিকিয়ে রাখতে তড়িঘড়ি করে পূর্ব দিক থেকে রুশ সৈন্যদের নিয়ে আসা হচ্ছে।

খেরসন শহরের দখল হারালে পুরো ডনবাস দখল করার জন্য ভ্লাদিমির পুতিনের যে পরিকল্পনা তা থমকে যাবে। 

দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন শহরের জনসংখ্যা ছিল যু্দ্ধের আগে দুই লাখ ৯০ হাজার। যুদ্ধের প্রথম দিকে রাশিয়া শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেবার পর থেকে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব আছেন রুশ সমর্থিত কর্মকর্তারা। যুদ্ধের গোড়ার দিকে, প্রায় কোনরকম প্রতিরোধ ছাড়াই রাশিয়ান সৈন্যরা খেরসনের দখল নিতে সক্ষমত হয়।

গত সপ্তাহে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর মূল লক্ষ্য এখন শুধু ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলই নয়, বরং তারা এখন দক্ষিণে খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়ার দখলের দিকেও তাদের অভিযান কেন্দ্রীভূত করছে।

রাশিয়ার তাস সংবাদ সংস্থার এক খবরে বলা হয়েছে, খেরসন শহরকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার সাথে যুক্ত করার জন্য শহরের কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক কয়েক দিনে একটি গণভোট অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছেন। এর জন্য কর্তৃপক্ষ একটি নির্বাচন কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে। 
 

ইত্তেফাক/এসআর