ক্ষমতার অপব্যবহার, বেআইনি কর্মকাণ্ডসহ নানা অভিযোগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজালের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই পদে তাঁর নিয়োগের চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না এবং কেন তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না— সে ব্যাপারে ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর এই ব্যাখ্যা দিতে হবে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে। গত রবিবার ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব (সংস্থা) জিয়া উদ্দিন ভূঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, সামীম আফজাল বেকায়দায় পড়েছেন ফাউন্ডেশনের মসজিদ ও মার্কেট বিভাগের পরিচালক মহীউদ্দিন মজুমদারকে সাময়িক বরখাস্ত করে। মজুমদার এই আদেশ পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। আর মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করে দেখেছে, মজুমদারকে বরখাস্তের এই আদেশ ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসে অনুমোদিত হয়নি। বোর্ড চেয়ারম্যান তখন সরকারি সফরে সৌদি আরব ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে মৌখিক সম্মতিও নেওয়া হয়নি। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য মজুমদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়নি। সামীম মোহাম্মদ আফজালের এই আদেশকে ‘ক্ষমতাবহির্ভূত, বেআইনি, অসত্ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার’ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় বলেছে, এই আদেশ বাতিলযোগ্য। মহীউদ্দিন মজুমদারকে স্বপদে বহালও করা হয় চিঠিতে।
ইত্তেফাক প্রতিবেদকের হাতে আসা ওই চিঠিতে জানানো হয়, সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে তাঁর বিরুদ্ধে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আর এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় জানতে চেয়েছে তাঁকে কেন সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হবে না। এই চিঠির বিষয়ে সামীম আফজাল ব্যস্ততার কথা বলে ইত্তেফাককে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর টানা ১০ বছর ধরেই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন সাবেক এই জেলা জজ। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে মহাপরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয় সামীম মোহাম্মদ আফজালকে। ২০১৬ সালের ২০ ডিসেম্বর তাঁর মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর আরো দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। গত মে মাসের শুরুতে সামীম মোহাম্মদ আফজালকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আর কেন এই সিদ্ধান্ত তার কারণও ব্যাখ্যা করা হয়নি স্পষ্ট করে। বিষয়টি অনেকটাই গোপনে হয়েছে। ২০১৬ সালে তিনি এই নিয়োগ পেয়েছিলেন।
