বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কাপ্তাই লেকে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা বাড়লো

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২২, ০১:৪১

কাপ্তাই লেকের পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে বৃদ্ধি না পাওয়ায় মাছ আহরণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরো ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ে বিগত তিন মাসের মতো লেকে সব প্রকার মাছ ধরা, বাজারজাতকরণ বন্ধ থাকবে। গত বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞাকালীন পানি পর্যাপ্ত পরিমাণ না বাড়ায় করণীয় নির্ধারণে সভা আহ্বান করে জেলা প্রশাসন। ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতি বছরের এই তিন মাস কাপ্তাই লেকে মাছ ধরা বন্ধ থাকলেও ১ আগস্ট থেকে স্বাভাবিক নিয়মে আহরণ শুরু হওয়ার কথা। তবে হ্রদের পানি পর্যাপ্ত না বাড়ায় ও মাছের পোনার সুষম বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞার সময় আরো ১৫ দিন বাড়িয়ে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে এ সময়েও যদি পর্যাপ্ত পানি না বাড়ে সেক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে বৈঠক করে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনে কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটি বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তৌহিদুল ইসলাম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) রাঙ্গামাটি নদী উপ-কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লিপন মিয়া, মৎস্য ব্যবসায়ী উদয়ন বড়ুয়া, আব্দুর শুক্কুর, হারুন সওদাগরসহ অন্যরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএফডিসি (বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন) রাঙ্গামাটি বিপণনকেন্দ্রের বিপণন কর্মকর্তা মো. শোয়েব সালেহীন জানান, আপাতত বৈঠকে ১৫ দিন নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে পূর্বের নিয়মগুলো জারি থাকবে। স্বাভাবিকভাবে কাপ্তাই লেকের পানি ১০০ এমএসএলের ওপরে থাকলে রেকে মাছ ধরা শুরু করা যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৯১ দশমিক ৬০ এমএসএল।

উল্লেখ্য, প্রতি বছরের ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস কাপ্তাই লেকে কার্পজাতীয় মাছের সুষম বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতসহ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এ সময় লেকে মাছ বাজারজাতকরণ ও স্থানীয় বরফ কলগুলোও বন্ধ থাকে। লেকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা যাতে মানা হয় সেজন্য নৌ-পুলিশের পাশাপাশি বিএফডিসির মনিটরিং দায়িত্ব পালন করে।

ইত্তেফাক/ইআ