বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইরান ও আমিরাতে বন্যায় ৬৩ জনের প্রাণহানি

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২২, ০২:২৪

ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আকস্মিক বন্যায় ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ জন ইরানের ও বাকিরা আমিরাতের। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে। ইরানে বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ভূমিধসের কারণে। দেশটির উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সন্ধানে তারা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইরানে ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৫৩ জনের মৃত্যুর পর উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধানে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জরুরি কার্যক্রমের প্রধান মেহদি ভালিপুর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছেন, দুই দিনের বন্যায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ১৮টির ৪০০ শহর ও গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ২০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে। বন্যায় দেশটির অসংখ্য মহাসড়কও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। 

তেহরানের গভর্নর মোহসেন মানসুরি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, রাজধানীর তেহরানের উত্তরপূর্বে আলবুরজ পর্বতমালার পাদদেশের ফিরোজ কুহ এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে তিনি ছয় জন নিখোঁজ থাকার কথাও জানিয়েছেন। মানসুরি জানান, শুক্রবারও তেহরান প্রদেশের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে বন্যার তাণ্ডব দেখা যায়। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও পর্বতারোহীরা এখনো ফিরোজ কুহের দিকে ছুটছে।

তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে ফিরোজ কুহ শহরটি গ্রীষ্মে তাপমাত্রা তুলনামূলক শীতল থাকায় ছুটি কাটাতে প্রচুর মানুষ সেখানে ভিড় করে। এলাকাটির ঢালু পথ পর্বতারোহীদেরও বেশ প্রিয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলেছে, বন্যার কারণে বৃহস্পতিবার ইমামজাদে দাবুদ গ্রামে সৃষ্ট ভূমিধসে অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়, ১৪ জন এখনো নিখোঁজ। ভূমিধসে একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষতি হওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা। গত শনিবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফারস প্রদেশে হড়কা বানে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশজুড়ে সাম্প্রতিক বন্যার পর সাত জন প্রবাসীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। মৃতরা সবাই এশিয়া মহাদেশের লোক বলে জানিয়েছে তারা। টুইটারে মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে, বন্যায় নিখোঁজ একজন প্রবাসী এশীয়কে মৃত পাওয়ার পর থেকে মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করতে শুরু করেছে তারা। বিরল এক প্রাকৃতিক ঘটনায় বৃহস্পতিবার পুরো সংযুক্ত আরব আমিরাত ও প্রতিবেশী কাতার জুড়ে ভারি বৃষ্টি হয়। এতে বহু এলাকায় রাস্তা, ঘরবাড়ি ডুবে যায়। বহু লোক হোটেলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে, বন্যায় রাস আল খাইমাহ, শারজাহ ও ফুজাইরাহ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফিল্ড ইউনিটগুলো এখনো এসব আমিরাতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা বেশ কয়েকটি ভিডিওতে শারজাহ ও ফুজাইরাহ থেকে লোকজনকে উদ্ধার করতে দেখা গেছে। পাহাড়ি এলাকা ও উপত্যকা বেষ্টিত ফুজাইরাহে ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে বলে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা বেশ কয়েকটি ভিডিওতে শারজাহ ও ফুজাইরাহ থেকে লোকজনকে উদ্ধার করতে দেখা গেছে। পাহাড়ি এলাকা ও উপত্যকা বেষ্টিত ফুজাইরাহে ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে বলে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দুবাই ও আবুধাবিতে বসবাসরত লোকজন জানিয়েছেন, সেখানে অপেক্ষাকৃত কম বৃষ্টি হয়েছে।

ইত্তেফাক/ইআ