বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জাবির ভর্তি পরীক্ষা: থেমে থাকেনি তারাও

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২২, ১৯:৫৩

কারও দু’পায়ে চলার শক্তি নেই, পথ চলেন হুইল চেয়ারে বসে। আবার কারও দু’চোখে আলো নেই, পথ চলতে হয় অন্যের সহযোগিতায়। তবুও থেমে থাকেনি তারা, স্বপ্ন দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার। বলছিলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আসা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের কথা। 

রবিবার (৩১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটভুক্ত কলা ও মানবিকী অনুষদ এবং বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন তারা। এদিন সকাল নয়টায় প্রথম শিফটের পরীক্ষা শুরু হয়। পরে বিকাল সোয়া চারটায় ৫ম শিফটের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষ হয়।

ময়মনসিংহ থেকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শাওন। তিনি ময়মনসিংহ এডওয়ার্ড ইন্সটিটিউট থেকে এসএসসি এবং নাজিরাবাদ কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছেন। বর্তমানে শাওনের স্বপ্ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। এছাড়া খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলা থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছেন জোবায়ের হোসাইন। নিজের পায়ে চলার শক্তি না থাকায় হুইলচেয়ারে বসে পরীক্ষা দিতে এসেছেন তিনি। তিনি আটলিয়া সিদ্দিকিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে এসএসসি ও সরকারি নর্থ খুলনা কলেজ থেকে এইসএসসি পাশ করেছেন।

পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে শাওন বলেন, পড়া রেকর্ড করে কিংবা বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করে পড়াশোনা করতে হয়। আমি তো আর চাইলেই অন্যদের মতো করে পড়ালেখা করতে পারি না। তারপরও সাধ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছি।

কিভাবে পরীক্ষায় অংশ নিবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার সাথে একজন শ্রুতিলেখক আছেন। তিনি পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবেন। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অফিস থেকে অনুমোদন নিতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে রাস্তাঘাটে চলাচলে কিছুটা সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে জাবির রাস্তাঘাট চলাচলের জন্য সুবিধাজনক মনে হয়। আবাসন সুযোগ-সুবিধাও ভালো। এজন্য আমার স্বপ্ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া।

জোবায়ের হোসাইন বলেন, ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বো। এজন্য ঢাকায় এসে কোচিং করেছি। এখানকার মুক্ত প্রকৃতি আর সবুজে ঘেরা পরিবেশ আমার অনেক পছন্দ। আশা করি, এখানে পড়াশোনার সুযোগ পাবো।

অন্যদিকে দিনাজপুর থেকে জাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মোখলেছুর রহমান। তিনি দিনাজপুর দিঘলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং দিনাজপুর সরকারি সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছেন। বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি কিভাবে নিয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন্ধুরা পড়া রেকর্ড করে দিতো। সেটা শুনে আত্মস্থ করতাম। এভাবে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছি। আর অনেকের কাছেই শুনেছি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি অনেক সুন্দর। আমি সেই সৌন্দর্য দেখতে না পেলেও অনুভব করতে পারি। তাই প্রতিবন্ধকতা জয় করে নিজেকে যোগ্য করে তোলা এবং দেশের সেবায় কাজ করাই আমার লক্ষ্য।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যালি-চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (পিডিএফ) সভাপতি আব্দুল গফফার জিসান বলেন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সময় সহযোগিতা, ভর্তি কার্যক্রমে সহযোগিতা, আবাসনের ব্যবস্থা করা ও তাদের পড়ালেখার উপকরণ জোগানোসহ নানা সহায়তা প্রদান করি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বদিচ্ছা থাকলে; শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আরও কাজ করতে পারবো। 

ইত্তেফাক/এআই