শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সুবর্ণচরে বৃদ্ধের পায়ুপথে টর্চলাইট ঢুকিয়ে নির্যাতন, গ্রেফতার ২

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২২, ২২:১৯

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নে নাছির মাইজভান্ডারী (৬৮) নামে এক বৃদ্ধের পায়ুপথে টর্চলাইট ঢুকিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি আবুল হোসেন ওরফে শাহনেওয়াজ (৪৫) ও অপর আসামি আবদুল গনিকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আবুল হোসেন ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি এবং আবদুল গনি ওই মামলার ৮ নম্বর আসামি। এরমধ্যে এক আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক ছিল না। আটজন আসামির মধ্যে ৫ জন উচ্চ আদালত জামিনে রয়েছেন।

গত ১ জুলাই (শুক্রবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের থানারহাটের আমানতগঞ্জ এলাকায় শেখ নাসির উদ্দিন ওরফে নাছির মাইজভান্ডারীকে মারধর করার একপর্যায়ে তার পায়ুপথে টর্চলাইট ঢুকিয়ে নির্যাতন করে। মৃত্যু ভেবে তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসী নাছির মাইজভান্ডারীকে উদ্ধার করে পরদিন ভোরে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অস্ত্রোপচার করে তার পায়ুপথ থেকে টর্চলাইটটি বের করা হয়। এ ঘটনায় নাছির উদ্দিনের ছেলে ওই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. শেখ রিপন ৮ জনকে এজাহারভূক্ত এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।  

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবপ্রিয় দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ৩ জুলাই রাতে মামলার প্রধান আসামি আবুল হোসেন ওরফে শাহনেওয়াজকে এবং গত ৪ জুলাই আবদুল গনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

ওসি আরও জানান, গ্রেফতার প্রধান আসামি আবুল হোসেনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছন।

এদিকে মামলার বাদী নাছির উদ্দিনের ছেলে ইউপি সদস্য মো. শেখ রিপন অভিযোগ করে জানান, ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান ভুঁইয়ার ইন্ধনে তার বৃদ্ধ বাবাকে নির্যাতন করা হয়। মাইজভান্ডার তরিকার মসজিদ নির্মাণে চেয়ারম্যান বাধা দেন। এ ঘটনার আগে গত জুন মাসে তার বাবা আদালতে চেয়ারম্যান আবদুল মন্নানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন দিয়ে তার বাবাকে প্রাণে মেরে ফেরার জন্য নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানকে আসামি করতে চাইলে পুলিশ তাকে আসামি করেনি। যার কারণে গত ১৫ জুলাই আদালতে চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান ভূঁইয়াসহ আরও ৪ জনকে এজারভুক্ত আসামি করার জন্য আবেদন করা হয়। আদালত এখনো এ বিষয়ে আদেশ দেননি।

তিনি আরও জানান, তার বাবা এখনো সুস্থ হননি। ঠিকমতো উঠে বসতে পারছেন না। বর্তমানে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ইত্তেফাক/এএএম