শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সংলাপের সুপারিশ নিয়ে এক মঞ্চে আলোচনা

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ০৫:০৪

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সদ্য সমাপ্ত সংলাপ থেকে প্রাপ্ত সকল সুপারিশ পর্যালোচনা করে শিগ্গিরই একটি কৌশলপত্র প্রস্তুত করার কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর এই কৌশলপত্র নিয়ে একমঞ্চে বিশেষ সংলাপে বসবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। 

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহলের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাবগুলো নিয়ে তারা পর্যালোচনা শুরু করে দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ফের গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ জন ও দলগুলোকে ডাকা হবে। এক্ষেত্রে ডাকা হবে প্রথম সংলাপে সাড়া না দেওয়া বিএনপিকেও। বিশেষ সংলাপটি অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী। সেখানে সবাই একমঞ্চেই থাকবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক গ্রুপ থেকে চার-পাঁচ জন করে অংশ নেবে। সংলাপে কৌশলপত্রটি উপস্থাপন করে অংশীজনের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে। এরপর সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত কৌশলপত্র প্রণয়ন করবে নির্বাচন কমিশন।

মো. আলমগীর বলেন, এমন কিছু সুপারিশ করা হয়েছে যে কারিগরিভাবে পরিবর্তন আনা। সেটা হয়তো আমরা করতে পারব না। একজন বলেছেন অনলাইনে ভোট নেওয়ার জন্য। এটা তো এখনই পারব না। আপনি হয়তো খুব ভালো পরামর্শ দিয়েছেন, সেটা হয়তো এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। যেগুলো সম্ভব সেগুলো হয়তো আমরা নেব। পরবর্তীকালে আবার সংলাপ হবে। এই রোডম্যাপ করার পরে আপনাদের সঙ্গে আবার আসবে বিশেষ আলোচনা। সেই রাউন্ড কিন্তু আমাদের সামনে রয়েছে। সেই রাউন্ডে আসবে যে আপনারা এটা করতে বলেছিলেন, আমরা তো করতে চাচ্ছি। কিন্তু এগুলোতে এই চ্যালেঞ্জ আছে, এখন বলেন আমরা কী করব। কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব।

তিনি বলেন, তখন হয়তো পাঁচটা গ্রুপে একসঙ্গে বসে আলোচনা হবে। প্রত্যেক গ্রুপ থেকে হয়তো কয়েকজন করে আসবে। এক্ষেত্রে যেই দাবিগুলো খুব বেশি, সেগুলো নিয়ে হয়তো আলোচনা হবে। এবারের মতো বিভিন্ন মহলের সঙ্গে পৃথক পৃথক নয়। দিনব্যাপী আলোচনা হয়তো হবে।

বিএনপির নির্বাচনে না আসার ঘোষণা নিয়ে সংকটকে রাজনৈতিক সংকট হিসেবেই দেখছে ইসি। এবং এ সংকট মোকাবিলা রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। তিনি বলেন, বিশেষ সংলাপে আমাদের কৌশলপত্রে উদ্দেশ্যে, লক্ষ্য, সুবিধা-অসুবিধা, অর্থসংক্রান্ত বিষয়, লোকবল, চ্যালেঞ্জ ইত্যাদি থাকবে। যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে, সেগুলো কীভাবে মোকাবিলা করতে পারি, তা নিয়েই আলোচনা হবে।

সংলাপে সেনাবাহিনীর বিপক্ষে কেউ বলেনি উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার আলমগীর বলেন, যেমন একটা রাজনৈতিক দলের একজন প্রস্তাব দিল সব কেন্দ্রে সেনাবাহিনী দেওয়ার জন্য। তখন আমি উনাকে একটা পালটা প্রশ্ন করেছিলাম, যেসব কেন্দ্রে দিতে গেলে আপনি কি জানেন যে ৪০ হাজার কেন্দ্র আছে। তো ৪০ হাজার কেন্দ্রে যদি আমরা যদি সেনা দিতে চাই কত আর্মি দরকার? আমাদের তো এতো অফিসার এবং আর্মি নেই। তখন আমরা কী করব? তখন ক্যান্টমেন্ট খালি করে দিলেও, নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী দিলেও তো হবে না।

ইত্তেফাক/ইআ